ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া: চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁসের অপেক্ষায় Logo এআই যুগে সৃজনশীল বিষয়ে পড়ে কি সত্যিই ‘ভাত নাই’? Logo উত্তপ্ত মরুভূমিতে উট সংকট: ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি Logo ইরান হামলা স্থগিত: ইন্টারসেপ্টর সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্ত Logo সূর্যগ্রহণ দেখতে দুই বছর আগেই হোটেল বুকিং! কেন এত আগ্রহ? Logo এসইএল: আবাসন খাতে আস্থা ও মানের দীর্ঘ যাত্রা Logo বিএটিবিসির সিগারেট বিক্রি বেড়েছে, তিন মাসে ১৪,৫৬৩ কোটি টাকা Logo আজকের বিনিময় হার: বেড়েছে ডলারের দাম, কমেছে ইউরো ও পাউন্ড Logo সিঙ্গার বাংলাদেশে দারুণ প্রত্যাবর্তন, লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরল Logo ১৯ বছরেই বাবা হচ্ছেন এনদ্রিক, ছেলের নাম নিয়ে চমক

বিটিভিতে বিনা খরচে বিশ্বকাপ সম্প্রচার, জানাল সরকার

বিটিভি বিশ্বকাপ সম্প্রচার

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে এবং এ জন্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির নিজস্ব তহবিল থেকে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় ফিফার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় দেশের কোটি কোটি দর্শক বিনা খরচে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন। প্রতি আসরে কোটি কোটি দর্শক প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার এবারও দেশের মানুষের জন্য সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানান, বিগত কয়েকটি বিশ্বকাপ আসরে সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ব্যয় আরও বেড়ে যায়, যা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ফিফা থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমদিকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে বিকল্প পথ অনুসন্ধান শুরু করে। জনগণের অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আলোচনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে আলোচনাকে আরও কার্যকর করা হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা, সমন্বয় এবং দরকষাকষির মাধ্যমে অবশেষে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করা গেছে বলে দাবি সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে শুধু চুক্তিমূল্যই নয়, এর সঙ্গে ভ্যাট ও আয়করসহ অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যয়ও যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।

সরকারের দাবি, এই অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যেই পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে বিভিন্ন সম্প্রচার অধিকার ও বিজ্ঞাপন সুবিধা বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই এসব উৎস থেকে উঠে আসবে। ফলে বিটিভির নিজস্ব তহবিলের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ পড়বে না এবং রাষ্ট্রীয় অর্থেরও অপচয় হবে না।

তার ভাষায়, জনগণের করের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক দক্ষতা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসর সম্প্রচারকে তিনি শুধু বিনোদনের বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং এটি জাতীয় আগ্রহ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ক্রীড়াচর্চা বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। বিশ্বকাপ এলেই শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে পতাকা উত্তোলন, আড্ডা এবং খেলা ঘিরে নানা আয়োজন দেশের সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।

এই বিপুল দর্শক চাহিদার কারণে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দেশের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ যাতে বিনা খরচে খেলা দেখতে পারেন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেবল পে-টিভি বা নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হলে বিপুলসংখ্যক দর্শক খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারতেন। বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন হিসেবে বিটিভির সম্প্রচার নেটওয়ার্ক দেশের প্রায় সব এলাকায় পৌঁছে গেছে। ফলে ইন্টারনেট বা আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা না থাকলেও সাধারণ দর্শক খেলা দেখতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। সরাসরি অধিকারধারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করলে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচার অধিকার বিক্রির মাধ্যমে ব্যয় সমন্বয়ের মডেলও আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জনগণও উপকৃত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপ ঘিরে বিটিভি বিশেষ অনুষ্ঠান, বিশ্লেষণমূলক আয়োজন এবং ম্যাচপূর্ব ও ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনা সম্প্রচারের পরিকল্পনাও গ্রহণ করছে। দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নানা জটিলতা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। দেশের দর্শকদের বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সম্প্রচারও তুলনামূলক কম ব্যয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে জনগণের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেবার মানও বজায় রাখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বিটিভির মহাপরিচালক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষে ইয়াসের খান চৌধুরী দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে এবার বিটিভির পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশের দর্শকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া: চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁসের অপেক্ষায়

বিটিভিতে বিনা খরচে বিশ্বকাপ সম্প্রচার, জানাল সরকার

Update Time : ০৯:১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে এবং এ জন্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির নিজস্ব তহবিল থেকে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় ফিফার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় দেশের কোটি কোটি দর্শক বিনা খরচে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন। প্রতি আসরে কোটি কোটি দর্শক প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার এবারও দেশের মানুষের জন্য সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানান, বিগত কয়েকটি বিশ্বকাপ আসরে সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ব্যয় আরও বেড়ে যায়, যা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ফিফা থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমদিকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে বিকল্প পথ অনুসন্ধান শুরু করে। জনগণের অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন  বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো এনএসসি, নতুন কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আলোচনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে আলোচনাকে আরও কার্যকর করা হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা, সমন্বয় এবং দরকষাকষির মাধ্যমে অবশেষে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করা গেছে বলে দাবি সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে শুধু চুক্তিমূল্যই নয়, এর সঙ্গে ভ্যাট ও আয়করসহ অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যয়ও যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।

সরকারের দাবি, এই অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যেই পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে বিভিন্ন সম্প্রচার অধিকার ও বিজ্ঞাপন সুবিধা বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই এসব উৎস থেকে উঠে আসবে। ফলে বিটিভির নিজস্ব তহবিলের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ পড়বে না এবং রাষ্ট্রীয় অর্থেরও অপচয় হবে না।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের বল বানায় যে দেশ, সেই দেশই কখনো খেলেনি!

তার ভাষায়, জনগণের করের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক দক্ষতা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসর সম্প্রচারকে তিনি শুধু বিনোদনের বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং এটি জাতীয় আগ্রহ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ক্রীড়াচর্চা বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। বিশ্বকাপ এলেই শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে পতাকা উত্তোলন, আড্ডা এবং খেলা ঘিরে নানা আয়োজন দেশের সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।

এই বিপুল দর্শক চাহিদার কারণে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দেশের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ যাতে বিনা খরচে খেলা দেখতে পারেন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেবল পে-টিভি বা নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হলে বিপুলসংখ্যক দর্শক খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারতেন। বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন হিসেবে বিটিভির সম্প্রচার নেটওয়ার্ক দেশের প্রায় সব এলাকায় পৌঁছে গেছে। ফলে ইন্টারনেট বা আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা না থাকলেও সাধারণ দর্শক খেলা দেখতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। সরাসরি অধিকারধারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করলে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  ২০২৬ বিশ্বকাপ: ৮ হাজার কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উৎসব

একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচার অধিকার বিক্রির মাধ্যমে ব্যয় সমন্বয়ের মডেলও আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জনগণও উপকৃত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপ ঘিরে বিটিভি বিশেষ অনুষ্ঠান, বিশ্লেষণমূলক আয়োজন এবং ম্যাচপূর্ব ও ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনা সম্প্রচারের পরিকল্পনাও গ্রহণ করছে। দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নানা জটিলতা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। দেশের দর্শকদের বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সম্প্রচারও তুলনামূলক কম ব্যয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে জনগণের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেবার মানও বজায় রাখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বিটিভির মহাপরিচালক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষে ইয়াসের খান চৌধুরী দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে এবার বিটিভির পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশের দর্শকরা।