ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর ১টি বড় ব্রেকিং নিউজ Logo হাকিমির সঙ্গে প্রেমে নোরা ফাতেহি? বিশ্বকাপে নতুন গুঞ্জন Logo ডেঙ্গু জ্বরের তাণ্ডব: হাসপাতালে নতুন ১৩৫ রোগীর চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo প্রথম ম্যাচে ড্র, তবু বিশ্বকাপ জিতেছিল যারা—স্বস্তি পাবে ব্রাজিল Logo তৃণমূলের সংকট মোকাবিলায় মমতা ব্যানার্জির জন্য বড় ১টি দুশ্চিন্তা Logo ৭-১-এর পর সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট? ব্রাজিলকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা Logo জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে বিমানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা Logo প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার প্রকল্প নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo শা-পা ডে: বিইউপি শিক্ষার্থীদের শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবসের উৎসব Logo এজিআই ও ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ: এআই কি চাকরি কেড়ে নেবে?

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে শিগগির দেশে আনা হবে

ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক রয়েছেন এবং তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় আমিরাত পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এর আগেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই নোটিশের ভিত্তিতেই ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ আমিরাতের আইনগত হেফাজতে রয়েছেন। দেশটির ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিচারাধীন মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

সরকারি সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যার্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করছে, আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোলের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ও এনসিবি আবুধাবির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, দণ্ডবিধি এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার আইনের আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সরকারের দাবি, এই গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার অভিযুক্তকে বিদেশে শনাক্ত ও আটক করতে সক্ষম হওয়াকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিষয়টিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ পুরো প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার ভাষায়, অপরাধী যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বর্তমানে সবার নজর প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়ার দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানো হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। ফলে বেনজীর আহমেদের দেশে ফেরা এখন সময় ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর ১টি বড় ব্রেকিং নিউজ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে শিগগির দেশে আনা হবে

Update Time : ০৫:১৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক রয়েছেন এবং তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় আমিরাত পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এর আগেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই নোটিশের ভিত্তিতেই ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন  যশোরে সাবেক রাজনৈতিক নেতাকে আটক, গ্রেপ্তার ঘিরে পরিবারের অভিযোগ

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ আমিরাতের আইনগত হেফাজতে রয়েছেন। দেশটির ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিচারাধীন মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

সরকারি সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যার্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করছে, আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোলের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ও এনসিবি আবুধাবির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর প্রাণহানি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, দণ্ডবিধি এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার আইনের আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সরকারের দাবি, এই গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার অভিযুক্তকে বিদেশে শনাক্ত ও আটক করতে সক্ষম হওয়াকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিষয়টিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ পুরো প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার আদালতে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার ভাষায়, অপরাধী যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বর্তমানে সবার নজর প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়ার দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানো হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। ফলে বেনজীর আহমেদের দেশে ফেরা এখন সময় ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।