ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাসের দাম বাড়বে না: সুখবর জানাল পেট্রোবাংলা | Logo মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা: ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় ইতিবাচক বার্তা Logo সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন Logo জুলাই অভ্যুত্থান: শক্তিশালী সংস্কার ও বিচার নিয়ে নতুন বার্তা Logo জিমি বাংলাদেশের মেসি: চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন গেরহার্ড Logo বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা Logo ফুটবলে আগ্রহ কমছে: ৩৬% ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের খবরই রাখেন না | জরিপে চমক Logo কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিং ধস, বড় হারে শুরু বাংলাদেশের Logo রোনালদোর গোপন বিয়ে? ভাইরাল নিমন্ত্রণপত্রে তোলপাড়

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বর্ষণ হতে পারে ৪ বিভাগে: ৫ দিনের সতর্কবার্তা

দেশের আকাশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মেঘের ঘনঘটা। ছবি: সংগৃহীত

লঘুচাপের বিশেষ প্রভাব ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের আট বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বর্ষণ হতে পারে দেশের অন্তত চারটি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়। একই সাথে অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করা লঘুচাপের কারণে দেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং পরবর্তী পাঁচ দিন এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার এই পূর্বাভাস সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে অবস্থান করছে। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অবশিষ্টাংশে এটি দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণেই মূলত দেশের আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা তৈরি হয়েছে।

এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সাথে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা ঘটতে পারে। সাধারণ মানুষকে এই সময়ে মেঘের গর্জন শুনলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে শুরু করে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের এই আধিক্য সত্ত্বেও সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও যুক্ত করা হয়েছে যে, রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা সামান্য কম-বেশি হতে পারে। মৌসুমের এই সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যা বৃষ্টিপাতকে ত্বরান্বিত করে। তবে নদী অববাহিকা ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও পাহাড় ধস বা আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে, যা সাধারণ জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করে।

বর্তমানে দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল স্বাভাবিক থাকলেও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো গণমাধ্যমকে জানানো হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৎস্যজীবী ও নৌযান চালকদের উত্তর বঙ্গোপসাগরে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে চাষিদেরও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে কৃষিকাজ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাসের দাম বাড়বে না: সুখবর জানাল পেট্রোবাংলা |

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বর্ষণ হতে পারে ৪ বিভাগে: ৫ দিনের সতর্কবার্তা

Update Time : ০৯:০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

লঘুচাপের বিশেষ প্রভাব ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের আট বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বর্ষণ হতে পারে দেশের অন্তত চারটি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়। একই সাথে অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করা লঘুচাপের কারণে দেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং পরবর্তী পাঁচ দিন এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার এই পূর্বাভাস সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে অবস্থান করছে। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অবশিষ্টাংশে এটি দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণেই মূলত দেশের আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  বৃষ্টিতে কারওয়ান বাজারে জলাবদ্ধতা-খানাখন্দ, দুর্ভোগে অবলা প্রাণীও

এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সাথে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা ঘটতে পারে। সাধারণ মানুষকে এই সময়ে মেঘের গর্জন শুনলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  দেশের চার বিভাগে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে শুরু করে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের এই আধিক্য সত্ত্বেও সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও যুক্ত করা হয়েছে যে, রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা সামান্য কম-বেশি হতে পারে। মৌসুমের এই সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যা বৃষ্টিপাতকে ত্বরান্বিত করে। তবে নদী অববাহিকা ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও পাহাড় ধস বা আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে, যা সাধারণ জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করে।

আরও পড়ুন  শেষ বিদায়েও দুর্ভোগ, গলা সমান পানি পেরিয়ে লাশ কবরস্থানে নিলেন স্বজনরা

বর্তমানে দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল স্বাভাবিক থাকলেও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো গণমাধ্যমকে জানানো হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৎস্যজীবী ও নৌযান চালকদের উত্তর বঙ্গোপসাগরে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে চাষিদেরও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে কৃষিকাজ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।