ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চবিতে ছাত্রদল শিবিরের সংঘর্ষের উত্তেজনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চবিতে ছাত্রদল শিবিরের সংঘর্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে প্রধান দুই ছাত্র সংগঠনের আকস্মিক পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল এবং মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত এড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে যান। রাজনৈতিক দল দুটির এমন অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসের ভেতরে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত গোলচত্বর ও সোহরাওয়ার্দী মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু করে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের এই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও শক্তির মহড়া চলে। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে দুই দলের এই মুখোমুখি অবস্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলের ভেতরে ও ক্যাম্পাসের রাস্তায় চলাচল করতে বেশ বেগ পেতে হয়।

মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে, যখন কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক’ সাজানোর তীব্র অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়, যেখানে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর ঠিক পরপরই রাত ১০টার দিকে বিএনপির এক সংসদ সদস্যের হিজাব নিয়ে করা কটূক্তির প্রতিবাদে মাঠে নামে ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে স্লোগান শুরু করলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান ও তীব্র বাদানুবাদের কারণে একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন জানান, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পৃথক দুটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ঘটেনি। উভয় সংগঠনের নেতারাই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেছেন।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। ছাত্রদলের মিছিলে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শাখা সভাপতি মো. ইব্রাহীম ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বাটিতেই তৈরি করুন নরম ও চকলেটি ব্রাউনি, কম ঝামেলায় দারুণ স্বাদ

চবিতে ছাত্রদল শিবিরের সংঘর্ষের উত্তেজনা

Update Time : ০৯:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চবিতে ছাত্রদল শিবিরের সংঘর্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে প্রধান দুই ছাত্র সংগঠনের আকস্মিক পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল এবং মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত এড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে যান। রাজনৈতিক দল দুটির এমন অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসের ভেতরে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত গোলচত্বর ও সোহরাওয়ার্দী মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু করে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের এই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও শক্তির মহড়া চলে। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে দুই দলের এই মুখোমুখি অবস্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলের ভেতরে ও ক্যাম্পাসের রাস্তায় চলাচল করতে বেশ বেগ পেতে হয়।

আরও পড়ুন  বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতির সুযোগ নেই

মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে, যখন কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক’ সাজানোর তীব্র অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়, যেখানে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  এমপি আমির হামজার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, জীবননগরে উত্তেজনা

এর ঠিক পরপরই রাত ১০টার দিকে বিএনপির এক সংসদ সদস্যের হিজাব নিয়ে করা কটূক্তির প্রতিবাদে মাঠে নামে ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে স্লোগান শুরু করলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান ও তীব্র বাদানুবাদের কারণে একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন জানান, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পৃথক দুটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ঘটেনি। উভয় সংগঠনের নেতারাই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেছেন।

আরও পড়ুন  তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হতে চান

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। ছাত্রদলের মিছিলে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শাখা সভাপতি মো. ইব্রাহীম ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।