তিসিবীজ চুলের জন্য উপকারী এমন দাবি অনেক দিন ধরেই প্রচলিত। ছোট্ট এই বীজে রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আঁশ, ভিটামিন বি, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে তিসিবীজের জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি চুলের যত্নেও এটি বেশ আলোচিত একটি উপাদান।
চুল ঘন, মজবুত ও ঝলমলে করতে অনেকে তিসির তেল, তিসিবীজের জেল কিংবা বিভিন্ন ধরনের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন। তবে প্রশ্ন হলো, তিসিবীজ কি সত্যিই চুলের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিসিবীজে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি চুলের গোড়া শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা মাথার ত্বককে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।
তিসির তেল চুলের কিউটিকেলকে আবরণ দিয়ে রুক্ষতা কমাতে এবং ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফলে চুল কিছুটা মসৃণ, কোমল ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে। তবে এটি চুল দ্রুত লম্বা করে এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।
চুলের পরিচর্যায় তিসির তেল বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। অল্প পরিমাণ তেল হাতে নিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে মালিশ করে ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়। আবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহারের আগেও এটি ব্যবহার করা যায়। অনেকেই তিসিবীজ সেদ্ধ করে প্রাকৃতিক হেয়ার জেল তৈরি করে থাকেন, যা চুলকে কিছু সময়ের জন্য সুশৃঙ্খল রাখতে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় তিসিবীজ যুক্ত করাও উপকারী হতে পারে। গুঁড়া করা তিসিবীজ ওটমিল, সালাদ, স্মুদি কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, যা সামগ্রিকভাবে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তবে তিসিবীজ ব্যবহারে কিছু সতর্কতাও রয়েছে। অতিরিক্ত গ্রহণে পেটফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং নির্দিষ্ট ওষুধের কার্যকারিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তিসিবীজ বা তিসির তেল গ্রহণ না করাই ভালো।
সবশেষে বলা যায়, তিসিবীজ চুলের জন্য উপকারী হলেও এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সঠিক চুলের যত্নের পাশাপাশি তিসিবীজ বা তিসির তেল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।





























