ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুর Logo উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা Logo ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি Logo আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা বললেন, ‘কাউকে ভয় পেতে আসিনি’ Logo নার্সিং কর্মীদের পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু, কাগজ জমার শেষ সময় জানাল অধিদপ্তর Logo বখাটের হামলায় দাঁত ভেঙে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে স্কুলছাত্রী Logo ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আনচেলত্তির বড় বার্তা Logo হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই এজেন্ট, করা যাবে যেসব কাজ Logo ব্যালন ডি’অর জিতলে আফ্রিকাকে কেন উৎসর্গ করবেন এমবাপ্পে?

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩৭

সমতল পৃথিবীর ধারণার একটি প্রতীকী চিত্র।

পৃথিবী যে গোলাকার, এটি একটি সহজ ও সত্য ঘটনা। বহুকাল ধরে মানুষ এটা জানে। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ‘স্পুতনিক–১’ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায় এবং সেটি পুরো পৃথিবী ঘুরে আসে, তখন বিষয়টির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।

তবে প্রায়ই ইন্টারনেটে এমন কিছু মানুষের দেখা পাওয়া যায়, যাঁরা দাবি করেন, পৃথিবী নাকি সমতল। তাঁদের বলা হয় ‘ফ্ল্যাট-আর্থার’ বা সমতল পৃথিবীবাদী। হাজার বছর ধরে বিজ্ঞানীদের দেখানো শত শত প্রমাণের পরও তাঁরা বিশ্বাস করতে চান না, পৃথিবী গোল। পৃথিবী সমতল হওয়া সত্ত্বেও কেন এটি গোলের মতো কাজ করে, তার নানা রকম মনগড়া ব্যাখ্যা তৈরি করতে তাঁরা বেশ খাটাখাটনিও করেন।

কিন্তু সত্যি সত্যি পৃথিবী যদি গোল না হয়ে সমতল হতো, তবে এর পরিণতি হতো ভয়াবহ। এমন একটি চ্যাপটা পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বই থাকত না; বরং অনেক আগেই সব জীবন বিলুপ্ত হয়ে যেত।

চ্যাপটা পৃথিবী কেন টিকে থাকা অসম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালটেকের গ্রহবিজ্ঞানী ডেভিড স্টিভেনসনের মতে, কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে গোলাকার না বানিয়ে থালার মতো চ্যাপটা করতে হলে সেটিকে ভীষণ দ্রুত ঘোরাতে হবে। অত জোরে ঘুরলে সেই গ্রহ টুকরা টুকরা হয়ে মহাকাশে ভেঙে ছড়িয়ে পড়বে। ১৮৫০-এর দশকে বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল শনির বলয় নিয়ে গবেষণা করার সময় গণিতের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন, মহাকাশে চ্যাপটা থালার মতো কোনো বড় বস্তু স্থায়ী হতে পারে না।

আর ম্যাক্সওয়েলের গণিত থেকেই জানা গিয়েছিল, শনির বলয়গুলো কোনো চ্যাপটা বস্তু নয়; বরং পাথরের অসংখ্য ছোট টুকরা দিয়ে তৈরি। তাঁর এ কথা পরবর্তী সময়ে সত্যি প্রমাণিত হয়। এই একই কারণ বুঝিয়ে দেয়, কেন মহাবিশ্বে চ্যাপটা থালার মতো আকারের কোনো গ্রহ পাওয়া যায় না।

পৃথিবীকে না ঘুরিয়ে চ্যাপটা করতে চাইলে অলৌকিক কোনো শক্তির দরকার হবে। তবে তা করা হলেও সেই চ্যাপটা পৃথিবী বেশি সময় টিকবে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মহাকর্ষ বল টেনেটুনে গ্রহটিকে আবারও গোল বানিয়ে ফেলবে। কারণ, মহাকর্ষ চারপাশ থেকে সমান শক্তিতে কেন্দ্রের দিকে টানে। এ টানের কারণেই সব গ্রহ গোলাকার হয়।

ম্যাক্সওয়েলের সূত্র বলে, মহাকর্ষের বল কাজ করলে বাস্তবে সমতল পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা পুরোপুরি অসম্ভব। আর যদি মহাকর্ষ বলকেই বাদ দেওয়া হয়, তবে পৃথিবীর অস্তিত্ব ও প্রকৃতির কোনো নিয়মই আর বেঁচে থাকবে না।

কিন্তু কেমন হতো সমতল পৃথিবী? মহাকর্ষ বল ছাড়া আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থাকত না। কারণ, এ বলই বাতাসকে গ্রহের গায়ে ধরে রাখে। সাগরে কোনো জোয়ার-ভাটাও হতো না। কারণ, চাঁদের মহাকর্ষের টানেই সাগরের পানি ফুলে ওঠে এবং জোয়ার-ভাটা তৈরি হয়।

এমনকি মহাকর্ষ না থাকলে আমাদের আকাশে চাঁদই থাকত না। বিজ্ঞানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তথ্য বলছে, কোটি কোটি বছর আগে বড় কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লেগেছিল। সেই ধাক্কায় ছিটকে যাওয়া টুকরাগুলোকে পৃথিবীর মহাকর্ষ কাছাকাছি ধরে রেখেই চাঁদ তৈরি করে। আবার অন্য দুটি ধারণা বলে, চাঁদ হয়তো পৃথিবীর সঙ্গেই তৈরি হয়েছিল। কিংবা মহাকাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথিবীর মহাকর্ষ তাকে টেনে আটকে ফেলেছিল। অর্থাৎ যেভাবেই হোক, চাঁদ থাকার পেছনেও মূল কারণ এই মহাকর্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

Update Time : ০২:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পৃথিবী যে গোলাকার, এটি একটি সহজ ও সত্য ঘটনা। বহুকাল ধরে মানুষ এটা জানে। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ‘স্পুতনিক–১’ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায় এবং সেটি পুরো পৃথিবী ঘুরে আসে, তখন বিষয়টির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।

তবে প্রায়ই ইন্টারনেটে এমন কিছু মানুষের দেখা পাওয়া যায়, যাঁরা দাবি করেন, পৃথিবী নাকি সমতল। তাঁদের বলা হয় ‘ফ্ল্যাট-আর্থার’ বা সমতল পৃথিবীবাদী। হাজার বছর ধরে বিজ্ঞানীদের দেখানো শত শত প্রমাণের পরও তাঁরা বিশ্বাস করতে চান না, পৃথিবী গোল। পৃথিবী সমতল হওয়া সত্ত্বেও কেন এটি গোলের মতো কাজ করে, তার নানা রকম মনগড়া ব্যাখ্যা তৈরি করতে তাঁরা বেশ খাটাখাটনিও করেন।

কিন্তু সত্যি সত্যি পৃথিবী যদি গোল না হয়ে সমতল হতো, তবে এর পরিণতি হতো ভয়াবহ। এমন একটি চ্যাপটা পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বই থাকত না; বরং অনেক আগেই সব জীবন বিলুপ্ত হয়ে যেত।

আরও পড়ুন  হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন: ভারতের সবুজ রেলযাত্রায় ঐতিহাসিক নতুন অধ্যায়

চ্যাপটা পৃথিবী কেন টিকে থাকা অসম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালটেকের গ্রহবিজ্ঞানী ডেভিড স্টিভেনসনের মতে, কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে গোলাকার না বানিয়ে থালার মতো চ্যাপটা করতে হলে সেটিকে ভীষণ দ্রুত ঘোরাতে হবে। অত জোরে ঘুরলে সেই গ্রহ টুকরা টুকরা হয়ে মহাকাশে ভেঙে ছড়িয়ে পড়বে। ১৮৫০-এর দশকে বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল শনির বলয় নিয়ে গবেষণা করার সময় গণিতের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন, মহাকাশে চ্যাপটা থালার মতো কোনো বড় বস্তু স্থায়ী হতে পারে না।

আর ম্যাক্সওয়েলের গণিত থেকেই জানা গিয়েছিল, শনির বলয়গুলো কোনো চ্যাপটা বস্তু নয়; বরং পাথরের অসংখ্য ছোট টুকরা দিয়ে তৈরি। তাঁর এ কথা পরবর্তী সময়ে সত্যি প্রমাণিত হয়। এই একই কারণ বুঝিয়ে দেয়, কেন মহাবিশ্বে চ্যাপটা থালার মতো আকারের কোনো গ্রহ পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন  মেটার এআই চশমায় নতুন নিরাপত্তা, গোপন ভিডিও ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা

পৃথিবীকে না ঘুরিয়ে চ্যাপটা করতে চাইলে অলৌকিক কোনো শক্তির দরকার হবে। তবে তা করা হলেও সেই চ্যাপটা পৃথিবী বেশি সময় টিকবে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মহাকর্ষ বল টেনেটুনে গ্রহটিকে আবারও গোল বানিয়ে ফেলবে। কারণ, মহাকর্ষ চারপাশ থেকে সমান শক্তিতে কেন্দ্রের দিকে টানে। এ টানের কারণেই সব গ্রহ গোলাকার হয়।

ম্যাক্সওয়েলের সূত্র বলে, মহাকর্ষের বল কাজ করলে বাস্তবে সমতল পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা পুরোপুরি অসম্ভব। আর যদি মহাকর্ষ বলকেই বাদ দেওয়া হয়, তবে পৃথিবীর অস্তিত্ব ও প্রকৃতির কোনো নিয়মই আর বেঁচে থাকবে না।

আরও পড়ুন  ঈশ্বরদী থেকে নাসায় মাহমুদা সুলতানার অনন্য সাফল্য

কিন্তু কেমন হতো সমতল পৃথিবী? মহাকর্ষ বল ছাড়া আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থাকত না। কারণ, এ বলই বাতাসকে গ্রহের গায়ে ধরে রাখে। সাগরে কোনো জোয়ার-ভাটাও হতো না। কারণ, চাঁদের মহাকর্ষের টানেই সাগরের পানি ফুলে ওঠে এবং জোয়ার-ভাটা তৈরি হয়।

এমনকি মহাকর্ষ না থাকলে আমাদের আকাশে চাঁদই থাকত না। বিজ্ঞানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তথ্য বলছে, কোটি কোটি বছর আগে বড় কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লেগেছিল। সেই ধাক্কায় ছিটকে যাওয়া টুকরাগুলোকে পৃথিবীর মহাকর্ষ কাছাকাছি ধরে রেখেই চাঁদ তৈরি করে। আবার অন্য দুটি ধারণা বলে, চাঁদ হয়তো পৃথিবীর সঙ্গেই তৈরি হয়েছিল। কিংবা মহাকাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথিবীর মহাকর্ষ তাকে টেনে আটকে ফেলেছিল। অর্থাৎ যেভাবেই হোক, চাঁদ থাকার পেছনেও মূল কারণ এই মহাকর্ষ।