ফুটবল এবং উদ্ভাবনী বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুটি বড় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ মাসে।
এর মধ্যে প্রথম আয়োজন হিসেবে প্রাথমিক স্তরের খুদে ফুটবলারদের নিয়ে আগামী ২০ জুন শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বালক ও বালিকা বিভাগের ফাইনাল খেলা। অন্যদিকে, আগামী ২৯ জুন দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত হবে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি মেগা ইভেন্টের চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দুটি বড় প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি ও আকর্ষণীয় তথ্য গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আগামী ২০ জুন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আর্মি স্টেডিয়ামে গোল্ডকাপের ফাইনালে বালিকা বিভাগে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মুখোমুখি হবে পাবনার সাঁথিয়ার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। অন্যদিকে, বালক বিভাগের ফাইনালে ত্রৈশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বরিশালের বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
খুদে ফুটবলারদের এই মহাযজ্ঞ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে আড়াই মাস ধরে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২২ লাখেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিয়েছে। তৃণমূল তথা গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে দেশসেরা এই চার দল ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে এসেছে। এই বিশাল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ৫০ লাখে উন্নীত করার দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অন্যদিকে, মেধা অন্বেষণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের উদ্যোগে তিন ধাপে দেশব্যাপী উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে আয়োজিত হচ্ছে।
এই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক মেধা উৎসবের প্রথম ধাপে গত ১২ জুন দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে সেরা একটি দল এবং মহানগরের থানাগুলো থেকে সেরা দুটি দল নির্বাচিত হয়ে ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী এবং দুজন করে মেন্টর শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেখান থেকে নিখুঁত মূল্যায়নের মাধ্যমে সারা দেশের সেরা ১০০টি দলকে জাতীয় পর্যায়ের জন্য চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই চূড়ান্ত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারী ১২ হাজার দলের ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৪ হাজার শিক্ষকের বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনাগুলোকে মূল্যায়নের পাশাপাশি পুরস্কৃত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটির সাথে মিল রেখে একযোগে দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালিত হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারিদের দক্ষ ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাক্রমকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আগামী নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে প্রথাগত পড়াশোনার পাশাপাশি ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে সম্পূর্ণ নতুন দুটি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে যাতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। এছাড়া দেশের মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে চালু হতে যাচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন’ বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এই আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লাসরুমে কোনো জোরপূর্বক পড়াশোনা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা খেলার ছলে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও গুণগত পার্থক্যের দেয়াল পুরোপুরি ভেঙে ফেলা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা শুধু সনদনির্ভর হবে না, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা, সমতা ও নাগরিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাবে। এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রদত্ত নতুন নির্দেশিকা ও আধুনিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন। শিক্ষার্থীদের দুটি বড় প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষাখাতে নতুন যুগের সূচনা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


























