বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মারা গেছেন কোলন দে সান জাস্তো ক্লাবের ২২ বছর বয়সী ফুটবলার লাউতারো ফাজিওলি। তার মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছে পরিবার, ক্লাব ও স্থানীয় ফুটবল সমাজ।
আর্জেন্টিনার সান্তা ফে অঞ্চলের এই তরুণ ফুটবলার গত ১ জুন নিজ বাড়িতে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থ হওয়ার মাত্র এক দিন আগেও তিনি মাঠে খেলেছিলেন। সান্তা ফে কাপের একটি ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিয়েছিলেন ফাজিওলি। তখন তার মধ্যে কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি।
হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তার সতীর্থ, কোচ ও সমর্থকদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে কয়েক ঘণ্টা আগেও মাঠে থাকা একজন ফুটবলার এত দ্রুত জীবনযুদ্ধে হেরে যেতে পারেন।
অসুস্থ হওয়ার পর তাকে সান্তা ফের হোসে মারিয়া কালেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
অবশেষে প্রায় ২০ দিনের লড়াই শেষে মৃত্যুবরণ করেন এই তরুণ ফুটবলার। তার অকাল মৃত্যু আর্জেন্টিনার স্থানীয় ফুটবলে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব মানুষ তার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তারা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।
ফাজিওলির মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রকাশ করেছে তার ক্লাব কোলন দে সান জাস্তো। বিবৃতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রথম বিভাগের ফুটবলারের মৃত্যুতে তারা অত্যন্ত মর্মাহত এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।
শুধু শোক প্রকাশ করেই থেমে থাকেনি ক্লাবটি। লাউতারো ফাজিওলির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সপ্তাহজুড়ে সব ধরনের ক্রীড়া ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সান্তা ফে কাপের তৃতীয় রাউন্ডে দলের অংশগ্রহণও স্থগিত রাখা হয়েছে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়টুকু পুরোপুরি তার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হবে। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা একসঙ্গে তাকে স্মরণ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে অসংখ্য আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল মানুষ। মাত্র এক বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার। ফলে তার মৃত্যু পরিবারটির জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেও লাউতারো ফাজিওলির এই বিদায় আবারও মনে করিয়ে দিল, জীবনের অনিশ্চয়তার কাছে খ্যাতি, বয়স কিংবা পেশাদার ক্রীড়াবিদ পরিচয় কোনো কিছুই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তার অকাল মৃত্যু আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে দীর্ঘদিন বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।



























