গবেষক মারজানা আক্তার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতকে এক অনন্য ও গৌরবময় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’ কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংস্করণে এশিয়ার শীর্ষ ১০০ জন সেরা বিজ্ঞানীর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় অত্যন্ত গর্বের সাথে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই কৃতি সন্তান। অসামান্য বৈজ্ঞানিক অবদান ও যুগান্তকারী আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিকভাবে তাকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে, যা দেশের বিজ্ঞানচর্চায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করলো। বাকৃবি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই মেধার বিশ্বজয়ে পুরো দেশ আজ গর্বিত।
বিশ্বখ্যাত এই অনন্য অর্জনের পেছনে রয়েছে পোল্ট্রি খাতের সুরক্ষায় তার একটি অসাধারণ ও যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগ থেকে অণুজীববিজ্ঞানে অত্যন্ত সুনামের সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ল্যাবরেটরিতে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে সঠিক সুযোগ ও একাগ্রতা থাকলে এ দেশের তরুণরাও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে।
পোল্ট্রি খাতের সুরক্ষায় তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল দেশীয় হাঁস-মুরগির দেহে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত মারাত্মক ‘চিকেন ইনফেকশিয়াস অ্যানিমিয়া ভাইরাস’ (CIAV)-এর ক্ষতিকর ‘জেনোটাইপ ৩বি স্ট্রেন’ শনাক্ত করা। দেশের পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধে এবং পোল্ট্রিজাত মুরগির রোগ প্রতিরোধে তার এই সুনির্দিষ্ট আবিষ্কারকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা। পোল্ট্রি ভাইরাসের এই নতুন স্ট্রেন সফলভাবে উন্মোচন করার ফলেই আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছেন গবেষক মারজানা আক্তার।
বাংলাদেশের নারী বিজ্ঞানীদের জন্য আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পাওয়ার ইতিহাস সবসময়ই অত্যন্ত আনন্দের এবং বেশ অনুপ্রেরণার। এর আগে ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভ্যাকসিন বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে প্রখ্যাত অণুজীববিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে অসামান্য অবদানের জন্য এই বৈশ্বিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। পূর্বসূরিদের সেই গৌরবময় পথ ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ২০২৬ সালের নতুন তালিকায় যুক্ত হলো আমাদের এই তরুণ প্রতিভার নাম।
পূর্বসূরিদের সেই অনন্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের এই তরুণ বিজ্ঞানীর অসাধারণ বৈশ্বিক অর্জন বাংলাদেশের সামগ্রিক বিজ্ঞানচর্চা এবং বিশেষ করে তরুণ নারী গবেষকদের মনে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্যে তার পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেশী-বিদেশী অসংখ্য মানুষ তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন, যা দেশের বিজ্ঞান গবেষণাকে আরও গতিশীল করবে।
বিশ্বমঞ্চে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এমন অনন্য জয়যাত্রা আগামী দিনে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন নতুন উদ্ভাবনে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে। গবেষক মারজানা আক্তার এর মতো তরুণ মেধার এই অভূতপূর্ব বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে পোল্ট্রি শিল্প ও কৃষিনির্ভর গবেষণায় বাংলাদেশ এখন অনেক স্বাবলম্বী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকাকে উড্ডীন করার এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং দেশের বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলকে বিশ্ব দরবারে আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।




























