আলিয়ার শুটিং সেট দুর্ঘটনা আবারও বলিউডের শুটিং সেটে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মুম্বাইয়ের রয়্যাল পাম স্টুডিওতে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর প্রস্তুতিকালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি চন্দ্রধারী সিংহ যাদব।
ঘটনাটি ঘটে যখন অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের রিহার্সালের জন্য সেট প্রস্তুত করা হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, কাজ চলাকালে হঠাৎ দুর্ঘটনার শিকার হন ওই কর্মী। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া অথবা শর্ট সার্কিটের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠন এফডব্লিউআইসিই মনে করছে, এই সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সংগঠনটির দাবি, নিহত কর্মীর দুই কন্যার ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমপক্ষে ৫০ লাখ রুপি করা উচিত। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করা একজন কর্মীর পরিবারের জন্য আরও শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।
এই আলিয়ার শুটিং সেট দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং চলচ্চিত্র শিল্পের নেপথ্যে কাজ করা হাজারো কর্মীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রও সামনে নিয়ে এসেছে। বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অনেক সময় কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিবেশ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণে নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। বৈদ্যুতিক সংযোগ, ভারী সরঞ্জাম পরিচালনা এবং সেট নির্মাণের সময় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শুটিং সেটে নিরাপত্তা মান উন্নয়নের দাবি তুলেছেন।
বলিউডের আলো ঝলমলে জগতের আড়ালে কর্মরত হাজারো শ্রমিক ও টেকনিশিয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিল্পে আরও দায়িত্বশীল ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনে দিয়েছে।


























