ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, সিলেটে ঘণ্টায় ৬০ কিমি ঝড়ের আশঙ্কা Logo দীপিকা পাড়ুকোন মা হচ্ছেন আবারও: নতুন অতিথির অপেক্ষায় রণবীর-দীপিকা পরিবার Logo যেকোনো মুহূর্তে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে—ইরানের সতর্কবার্তা Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু হত্যা: ৬ বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার Logo চীনা মুদ্রায় ইরান থেকে তেল কিনছে ভারত, বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য Logo বিশ্ব বাণিজ্যে ধাক্কা! হরমুজ প্রণালি বন্ধে অনড় ইরান, বাড়ছে তেল সংকটের শঙ্কা Logo একদিনে ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল বাংলাদেশে Logo আর্জেন্টিনা পাকিস্তান ম্যাচ: মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আলোচনা শুরু Logo প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরা: একদিনে ৩৪ জনের মরদেহ পৌঁছাল বাংলাদেশে Logo নেইমার বাংলাদেশ জার্সি হাতে: গর্বের মুহূর্ত বাংলাদেশের ফুটবলে

চাঁদে দীর্ঘদিন বসবাসে মানবদেহের উপর পড়বে যেসব প্রভাব

চাঁদের নিম্ন মহাকর্ষে দীর্ঘদিন থাকলে মানবদেহে গুরুতর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে

১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর এবারই প্রথম আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের কাছাকাছি গেছেন চার নভোচারী। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ না করলেও পৃথিবী থেকে চাঁদের পেছন দিকে এমন একটি দূরবর্তী জায়গায় গেছেন, যেখানে আগে কখনো কোনো মানুষ পৌঁছায়নি।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পরিচালিত আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা। এই ঘাঁটিতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস অবস্থান করে বিভিন্ন গবেষণা করা হবে। এসব গবেষণার মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে মানুষের শরীরে কী কী পরিবর্তন হতে পারে তা জানতে চান বিজ্ঞানীরা।

moon-living-effects-on-human-body
মহাজাগতিক বিকিরণ ও বিষাক্ত ধূলিকণা চাঁদে বসবাসকে করে তুলতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, চাঁদে বসবাসের অর্থ হলো এমন এক পরিবেশের মুখোমুখি হওয়া, যেখানে প্রতিমুহূর্তে শরীরকে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একে বিজ্ঞানীরা বলছেন স্পেস এক্সপোজোম। চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগ। এই অবস্থায় শরীরের রক্ত, অক্সিজেন এবং অন্যান্য তরল চলাচলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়বিক ও রক্তনালির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চাঁদে পৃথিবীর মতো শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র নেই। ফলে নভোচারীরা সরাসরি মহাজাগতিক বিকিরণের শিকার হবেন, যা ডিএনএ নষ্ট করা থেকে শুরু করে ক্যানসার বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়া চাঁদের বিষাক্ত ধূলিকণা ফুসফুসেরও ক্ষতি করবে। এমনকি দীর্ঘ সময় পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক চাপ পড়বে।

chandey-manusher-jibon-jhuki
ভবিষ্যতে চাঁদের ঘাঁটিতে টিকে থাকতে নভোচারীদের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন

চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিজ্ঞানীরা কিছু সুরক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা পেশি ও হাড়ের ক্ষয় রোধে দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করেন। আর তাই চাঁদের পরিবেশের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক নভোচারীর শারীরিক গঠন অনুযায়ী ব্যক্তিগত ডায়েট চার্ট তৈরি করা হবে।

চাঁদের ঘাঁটিতে গ্রিনহাউস তৈরি করে সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। এমনকি চাঁদের মাটি ব্যবহার করে এমন কাঠামো তৈরি করা হবে, যা বিকিরণ এবং ছোট উল্কাপিণ্ড থেকে সুরক্ষা দেবে। এ ছাড়া ছোট আকৃতির সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র ব্যবহার করে নভোচারীদের শরীরে সাময়িকভাবে পৃথিবীর মতো মহাকর্ষের চাপ দেওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষাধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, সিলেটে ঘণ্টায় ৬০ কিমি ঝড়ের আশঙ্কা

চাঁদে দীর্ঘদিন বসবাসে মানবদেহের উপর পড়বে যেসব প্রভাব

Update Time : ০৮:২৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর এবারই প্রথম আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের কাছাকাছি গেছেন চার নভোচারী। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ না করলেও পৃথিবী থেকে চাঁদের পেছন দিকে এমন একটি দূরবর্তী জায়গায় গেছেন, যেখানে আগে কখনো কোনো মানুষ পৌঁছায়নি।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পরিচালিত আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা। এই ঘাঁটিতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস অবস্থান করে বিভিন্ন গবেষণা করা হবে। এসব গবেষণার মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে মানুষের শরীরে কী কী পরিবর্তন হতে পারে তা জানতে চান বিজ্ঞানীরা।

moon-living-effects-on-human-body
মহাজাগতিক বিকিরণ ও বিষাক্ত ধূলিকণা চাঁদে বসবাসকে করে তুলতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, চাঁদে বসবাসের অর্থ হলো এমন এক পরিবেশের মুখোমুখি হওয়া, যেখানে প্রতিমুহূর্তে শরীরকে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একে বিজ্ঞানীরা বলছেন স্পেস এক্সপোজোম। চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগ। এই অবস্থায় শরীরের রক্ত, অক্সিজেন এবং অন্যান্য তরল চলাচলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়বিক ও রক্তনালির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চাঁদে পৃথিবীর মতো শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র নেই। ফলে নভোচারীরা সরাসরি মহাজাগতিক বিকিরণের শিকার হবেন, যা ডিএনএ নষ্ট করা থেকে শুরু করে ক্যানসার বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়া চাঁদের বিষাক্ত ধূলিকণা ফুসফুসেরও ক্ষতি করবে। এমনকি দীর্ঘ সময় পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক চাপ পড়বে।

chandey-manusher-jibon-jhuki
ভবিষ্যতে চাঁদের ঘাঁটিতে টিকে থাকতে নভোচারীদের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন

চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিজ্ঞানীরা কিছু সুরক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা পেশি ও হাড়ের ক্ষয় রোধে দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করেন। আর তাই চাঁদের পরিবেশের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক নভোচারীর শারীরিক গঠন অনুযায়ী ব্যক্তিগত ডায়েট চার্ট তৈরি করা হবে।

চাঁদের ঘাঁটিতে গ্রিনহাউস তৈরি করে সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। এমনকি চাঁদের মাটি ব্যবহার করে এমন কাঠামো তৈরি করা হবে, যা বিকিরণ এবং ছোট উল্কাপিণ্ড থেকে সুরক্ষা দেবে। এ ছাড়া ছোট আকৃতির সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র ব্যবহার করে নভোচারীদের শরীরে সাময়িকভাবে পৃথিবীর মতো মহাকর্ষের চাপ দেওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষাধীন রয়েছে।