২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয় নিশ্চিত করার পর দলটির ড্রেসিংরুমে ছিল উৎসবের আমেজ। সেই উদযাপনের মধ্যেই ব্রাজিলকে উদ্দেশ্য করে সাহসী বার্তা দিয়েছেন প্রধান কোচ স্তালে সোলবাকেন। তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত ‘কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি!’ মন্তব্যটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
সোমবারের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নরওয়ের আত্মবিশ্বাস যেন এই একটি বাক্যেই ফুটে উঠেছে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর খেলোয়াড়দের সামনে দেওয়া কোচের বক্তব্যের শেষ অংশটি ছিল পুরো ড্রেসিংরুমের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। সতীর্থরা হাসি, হাততালি ও উল্লাসে সেই ঘোষণা উদযাপন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘প্ল্যানেটা দো ফুতবল’-এর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নরওয়েজিয়ান ভাষায় আবেগঘন বক্তব্য দেওয়ার পর আচমকাই ইংরেজিতে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির উদ্দেশে বার্তা দেন সোলবাকেন। তিনি উচ্চস্বরে বলেন, ‘কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি!’ ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডও ঐতিহাসিক জয়কে স্মরণীয় করে রেখেছেন। ম্যাচ শেষে নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এমন একটা দিন, যা আমরা কোনোদিন ভুলব না।’ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে এই ম্যাচকে দেখছেন নরওয়ের ফুটবলাররা।
তবে ম্যাচের শুরুটা নরওয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। নিকোলাস পেপের জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড। তাঁর সেই সেভই দলকে শুরুতেই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে।
ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় নরওয়ে। ৩৯তম মিনিটে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে বল পান ২১ বছর বয়সী আন্তোনিও নুসা। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালের উপরের কোণায় পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবেও ইতিহাস গড়েন নুসা।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। ৭৪তম মিনিটে আমাদ দিয়ালো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং নিকোলাস পেপের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাসিংয়ের পর গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান। গোল হজমের পর নরওয়ের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায় এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর ইঙ্গিত মিলতে থাকে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত নরওয়ের তারকা ফুটবলাররাই পার্থক্য গড়ে দেন। ৮৬তম মিনিটে অস্কার বব ও প্যাট্রিক বার্গের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ৬০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, যারা শেষ ষোলোতে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের পর্বে উঠেছে। আগামী ৬ জুলাইয়ের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নরওয়ের সামনে থাকবে নিজেদের রূপকথার যাত্রা আরও দীর্ঘ করার সুযোগ, আর ব্রাজিলের সামনে থাকবে ফেবারিটের মর্যাদা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।





























