ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চালু হয়নি তিন বছরেও, ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা

কর্ণফুলী টানেলের পাশে নির্মিত বিলাসবহুল অতিথিশালা।

কর্ণফুলী টানেল অতিথিশালা নির্মাণের প্রায় তিন বছর পার হলেও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ও বিলাসবহুল এই অতিথিশালাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এবার সেটি ইজারায় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত দেশের প্রথম টানেলকে ঘিরে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। এর অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হয় অত্যাধুনিক অতিথিশালা, যেখানে দেশি-বিদেশি অতিথি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশেষ প্রতিনিধিদের আবাসনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা ছিল। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতা, পরিচালনাগত পরিকল্পনার অভাব এবং ব্যবহারকারী না থাকায় ভবনটি কার্যকরভাবে চালু করা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়ছে। বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য খাতে নিয়মিত ব্যয় হলেও সেখান থেকে কোনো আয় আসছে না। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে অতিথিশালাটি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইজারার মাধ্যমে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অতিথিশালাটি পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে। তবে ভবনের মূল অবকাঠামো ও সরকারি মালিকানা অপরিবর্তিত থাকবে। পর্যটন, করপোরেট অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কিংবা অতিথি আবাসন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলে একদিকে ভবনটি সচল হবে, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে নির্মিত সহায়ক স্থাপনাগুলো সময়মতো ব্যবহার নিশ্চিত না হলে সেগুলো দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কার্যকর কৌশলও থাকা প্রয়োজন। কর্ণফুলী টানেলের অতিথিশালার ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিচালনা নীতিমালা থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মনে করছেন তারা।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কর্ণফুলী টানেল অতিথিশালা নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। এতে একদিকে অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চালু হয়নি তিন বছরেও, ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা

Update Time : ১২:১২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

কর্ণফুলী টানেল অতিথিশালা নির্মাণের প্রায় তিন বছর পার হলেও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ও বিলাসবহুল এই অতিথিশালাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এবার সেটি ইজারায় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত দেশের প্রথম টানেলকে ঘিরে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। এর অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হয় অত্যাধুনিক অতিথিশালা, যেখানে দেশি-বিদেশি অতিথি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশেষ প্রতিনিধিদের আবাসনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা ছিল। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতা, পরিচালনাগত পরিকল্পনার অভাব এবং ব্যবহারকারী না থাকায় ভবনটি কার্যকরভাবে চালু করা যায়নি।

আরও পড়ুন  মে মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়ছে। বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য খাতে নিয়মিত ব্যয় হলেও সেখান থেকে কোনো আয় আসছে না। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে অতিথিশালাটি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইজারার মাধ্যমে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অতিথিশালাটি পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে। তবে ভবনের মূল অবকাঠামো ও সরকারি মালিকানা অপরিবর্তিত থাকবে। পর্যটন, করপোরেট অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কিংবা অতিথি আবাসন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলে একদিকে ভবনটি সচল হবে, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।

আরও পড়ুন  প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে নির্মিত সহায়ক স্থাপনাগুলো সময়মতো ব্যবহার নিশ্চিত না হলে সেগুলো দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কার্যকর কৌশলও থাকা প্রয়োজন। কর্ণফুলী টানেলের অতিথিশালার ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিচালনা নীতিমালা থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন  পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কর্ণফুলী টানেল অতিথিশালা নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। এতে একদিকে অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।