বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ফুটবল ইতিহাসে শুধুমাত্র স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনই বড় বড় দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের বিচারে তাঁর চেয়ে এগিয়ে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো যোগ্যতা খুব কম মানুষেরই আছে।
জাপানের বিপক্ষে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেলেও ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে জয়ের পরও দলের খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক।
সমালোচকদের অভিযোগ, আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের ফুটবল আগের তুলনায় ধীর, ঝুঁকিপূর্ণ এবং পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক নয়। এমনকি অনেকেই মনে করছেন, এই ধরণের পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে বিশ্বকাপে খুব বেশি দূর এগোনো কঠিন হবে। যদিও এসব মন্তব্যে খুব একটা বিচলিত নন ইতালিয়ান এই অভিজ্ঞ কোচ।
নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ইতালিতে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে—সব পুরুষই ফুটবল কোচ হতে চায়, আর সব নারী হতে চায় স্থপতি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, ফুটবল নিয়ে মতামত দেওয়া সহজ হলেও বাস্তবে একটি দল পরিচালনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আনচেলত্তি জানান, তিনি এখন পর্যন্ত ১,৪০০-এর বেশি ম্যাচে কোচিং করিয়েছেন। তাঁর মতে, ফুটবল ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি ম্যাচ ডাগআউটে কাটানোর রেকর্ড রয়েছে কেবল স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের, যিনি দুই হাজারেরও বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তাই উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থাকেন, তাহলে তিনি শুধু ফার্গুসন।
আনচেলত্তি আরও বলেন, তিনি নিজেকে কোনো ফুটবল জিনিয়াস মনে করেন না। তবে একই সঙ্গে এটাও বিশ্বাস করেন যে তিনি মোটেও অযোগ্য বা বোকা নন। তিনি সব ধরনের পরামর্শ শোনেন, কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও সতর্ক ব্রাজিল কোচ। স্টেলে সোলবাকেনের দল শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের আক্রমণের মূল ভরসা আর্লিং হলান্ড। তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করা এই স্ট্রাইকারকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলে স্বীকৃতি দিলেও, তাঁকে আটকানো নিয়ে অতিরিক্ত চাপ নিচ্ছেন না আনচেলত্তি।
অন্যদিকে দলের ভেতরে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখা। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে শুরু থেকে খেলেননি ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এতে কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার পরিস্থিতি অত্যন্ত পেশাদারভাবে সামলাচ্ছেন এবং অনুশীলনে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করছেন।
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ২টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নেইমারের ভূমিকা কী হবে, সেটি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও আনচেলত্তি জানিয়েছেন, দলের স্বার্থই তাঁর কাছে সবার আগে। পাশাপাশি চোট কাটিয়ে ফেরার পর নেইমারের নিষ্ঠা ও একাগ্রতারও প্রশংসা করেছেন ব্রাজিল কোচ।




























