অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ব্রিসবেনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে চমকে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। দল হিসেবে সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকেও হারানো সম্ভব বলে বিশ্বাস বাংলাদেশ অধিনায়কের।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শক্তিমত্তার বিচারে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে অতীতের হিসাব নিয়ে না ভেবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপরই মনোযোগ দিতে চায় সফরকারীরা। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো হওয়ায় আত্মবিশ্বাসী দলটি। সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে চান জ্যোতি।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, বর্তমানের দিকে মনোযোগ রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরো দল হিসেবে একসঙ্গে খেলতে পারলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনা সম্ভব। তাই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় প্রচেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ নারী দল এর আগে চারটি ম্যাচ খেলেছে। তবে সবগুলোই ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ম্যাচ, কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে নয়। এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। নতুন অভিজ্ঞতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার পাশাপাশি রোমাঞ্চিতও পুরো দল।

জ্যোতি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পেরে তারা খুবই আনন্দিত এবং সিরিজটি নিয়ে দলের সবাই রোমাঞ্চিত। ভিন্ন কন্ডিশনে খেলা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। তবে সেই চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচকভাবে নিতে চায় বাংলাদেশ। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলেই ভালো কিছু সম্ভব বলে মনে করেন অধিনায়ক।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব শুরু করেছেন ডেভিড হেম্প। দেশটির ক্রিকেট কাঠামো ও কন্ডিশন সম্পর্কে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ফলে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট, আবহাওয়া ও প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা নিয়ে দলকে ধারণা দিচ্ছেন তিনি। তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুশীলনেও নিজেদের প্রস্তুত করছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

হেম্পের কাছ থেকে ভালো কিছু ধারণা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জ্যোতি। অস্ট্রেলিয়ার উইকেট কেমন হতে পারে এবং স্বাগতিকরা কীভাবে খেলতে পারে, সে বিষয়ে দলকে প্রস্তুত করছেন কোচ। নেটে অনুশীলনের সময়ও সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মাঠে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটাতে পারলেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলা সম্ভব বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নারী দলের পছন্দের ফরম্যাটগুলোর একটি ওয়ানডে ক্রিকেট। ৫০ ওভারের ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তুলনামূলক বেশি সময় পাওয়া যায়। জ্যোতির বিশ্বাস, এই ফরম্যাটে ভালো করার মতো যথেষ্ট সামর্থ্য বাংলাদেশের রয়েছে। দেশের মাটি কিংবা বিদেশের কন্ডিশন, দুই জায়গাতেই ওয়ানডেতে নিজেদের প্রমাণ করেছে দলটি।

দলের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড়ের ওপরও ভরসা রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সবাই নিজেদের ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করতে পারলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ছোট ভুলও বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই সিরিজে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে বাড়তি চিন্তা না করে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই মনোযোগ জ্যোতি ও তার সতীর্থদের। দল হিসেবে সেরাটা দিতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দেওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস তাদের। এখন সেই বিশ্বাস মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা ফুটে ওঠে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।