আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায় বললেও লিওনেল মেসিকে ছাড়তে চায় না ইন্টার মায়ামি। খেলোয়াড় হিসেবে মেসির বর্তমান চুক্তি ২০২৮ সালের এমএলএস মৌসুম পর্যন্ত থাকলেও, এরপরও তাকে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রাখার পরিকল্পনা করছে মায়ামি। এমনকি অবসরের পর মেসিকে ক্লাবের মালিকানা কাঠামোর অংশ করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন ক্লাবটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সভাপতি জাভিয়ের আসেনসি।

২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির চেহারায় বড় পরিবর্তন এসেছে। মাঠে মেসির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার উপস্থিতি ক্লাবটির বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। মেসিকে ধরে রাখতে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় মিলিয়ে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হয় মায়ামির।

তবে এই বড় ব্যয়ের বিপরীতে মেসির আগমনের পর ক্লাবটির আয় ও বাণিজ্যিক মূল্যও বেড়েছে। ২০২৬ সালে ইন্টার মায়ামির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। একই বছরে ক্লাবটির আয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মেসিকে হারানোর বিষয়টি শুধু একজন ফুটবলারকে হারানো হিসেবে দেখছে না মায়ামি।

ক্লাবটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সভাপতি জাভিয়ের আসেনসি জানিয়েছেন, পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরও মেসির জন্য ইন্টার মায়ামিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় ক্লাব। তার মতে, খেলোয়াড় হিসেবে মেসির সময় শেষ হলেও ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে সেই সম্পর্ক আরও বড় পরিসরে গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আসেনসি বলেন, মেসি অবসর নেওয়ার পর ইন্টার মায়ামিতে তার সময় ও ভূমিকার জন্য একটি জায়গা রাখতে চায় ক্লাব। খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় এমএলএসের নিয়মের কারণে মালিকানা নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও অবসরের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তখন মেসির জন্য মালিকানা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার পথও খুলে যেতে পারে।

মেসিকে ঘিরে মায়ামির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শুধু মালিকানা নয়, আরও বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। নতুন স্টেডিয়াম, বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এমএলএসের অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনার সঙ্গেও মেসির নামকে যুক্ত করা হচ্ছে। তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের পরিচিতি আরও বাড়াতে চায় মায়ামি।

তবে অবসর নিয়ে এখনই ভাবতে হচ্ছে না মেসিকে। খেলোয়াড় হিসেবে তার সঙ্গে মায়ামির বর্তমান চুক্তি ২০২৮ সালের মৌসুম পর্যন্ত। এর পরও মেসিকে আরও দুই মৌসুম মাঠে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির। ফলে মেসির অবসর পর্যন্ত সময়কে ঘিরে যেমন পরিকল্পনা চলছে, তেমনি অবসরের পরের অধ্যায় নিয়েও আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্টার মায়ামি।

মেসির জন্য ইন্টার মায়ামির এই পরিকল্পনা ফুটবলের বাইরেও তার প্রভাবের বিষয়টি সামনে আনছে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ক্লাবটির জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মূল্য বাড়িয়েছেন। এবার সেই প্রভাবকে দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগিয়ে মেসিকে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ করে রাখতে চায় ইন্টার মায়ামি।