চবিতে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও আশপাশের কটেজে থাকা শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিভাগে বর্ষসমাপনী পরীক্ষা চলার মধ্যেই সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপনেও সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও আশপাশের কটেজে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বসবাস করেন। দিনের একাডেমিক কার্যক্রম শেষে সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওই সময়েই ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কয়েক দফায় বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা এবং কখনো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে অনলাইন ক্লাসের উপকরণ, পিডিএফ ও অন্যান্য ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারেও সমস্যায় পড়ছেন তারা।
বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে না পেরে আলাওল হলের বারান্দায় বসে থাকার কথা জানান নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন মারুফ। তার ভাষ্য, পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীরা এখন ইন্টারনেট ও ডিজিটাল উপকরণের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকলে হলের ওয়াই-ফাইও ব্যবহার করা যায় না। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান সুমন।
হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, হলের তুলনায় কটেজে থাকা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। সন্ধ্যায় পড়তে বসার সময় বিদ্যুৎ চলে যায় এবং দীর্ঘ সময় পর ফিরলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবার চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। চলমান পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে অন্তত সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
এদিকে সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে এবং লোডশেডিং কমানোর চেষ্টা চলছে। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন