ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাতে সরকারের বড় উদ্যোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

স্বাস্থ্য খাতের সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। | ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজ নেন ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেকে হাসপাতালের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। তবে হাসপাতালটিতে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চাপ তৈরি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ফলে সীমিত অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

জনবল সংকটকে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী। তিনি বলেন, শুধু ফেনী নয়, দেশের অনেক সরকারি হাসপাতালেই একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল সব জায়গায় বাড়েনি। এতে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন, ডায়ালাইসিস বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড, স্পেশাল কেয়ার নিওনেটাল ইউনিট, মেডিসিন ওয়ার্ড, আইসিইউ, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট এবং শিশু বিকাশ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সেবা পাওয়ার বিষয়েও খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উঠে আসে।

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর মধ্যে অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বেড সংকট এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাব অন্যতম। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে বড় শহরের হাসপাতালের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত শয্যা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ড. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল এবং আরএমও মো. রুকনুজ্জামানসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেন ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে সরকারি হাসপাতালের ওপর রোগীদের আস্থা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাতে সরকারের বড় উদ্যোগ

Update Time : ০৯:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজ নেন ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেকে হাসপাতালের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। তবে হাসপাতালটিতে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চাপ তৈরি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ফলে সীমিত অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন  তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে বিএনপি সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

জনবল সংকটকে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী। তিনি বলেন, শুধু ফেনী নয়, দেশের অনেক সরকারি হাসপাতালেই একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল সব জায়গায় বাড়েনি। এতে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫: তারকাখচিত আয়োজন

পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন, ডায়ালাইসিস বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড, স্পেশাল কেয়ার নিওনেটাল ইউনিট, মেডিসিন ওয়ার্ড, আইসিইউ, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট এবং শিশু বিকাশ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সেবা পাওয়ার বিষয়েও খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উঠে আসে।

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর মধ্যে অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বেড সংকট এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাব অন্যতম। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে বড় শহরের হাসপাতালের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত শয্যা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন  কমছে প্রবাসী পাসপোর্ট ফি

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ড. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল এবং আরএমও মো. রুকনুজ্জামানসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেন ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে সরকারি হাসপাতালের ওপর রোগীদের আস্থা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।