রাতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে মেট্রোরেলের চলাচল আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে রাতে দুটি অতিরিক্ত ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট বাড়িয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত ট্রেন চালানোর চিন্তা করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
গত ৭ জুন থেকে রাতে মেট্রোরেলের চলাচল দুই দিকেই ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শেষের দিকের ট্রেনগুলোর মধ্যে ২০ মিনিটের বিরতি থাকায় যাত্রীদের চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন করে দুটি ট্রেন যুক্ত হলে এই বিরতি কমে প্রায় ৭ থেকে ৮ মিনিটে নেমে আসবে। এতে রাতে মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, জুনে রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর পর মেট্রোরেলে যাত্রী চলাচলও বেড়েছে। প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত যাত্রী এ সময়ে মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। রাতের যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে আরও দুটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকেই নতুন ট্রেন দুটি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে মতিঝিল থেকে উত্তরা অভিমুখে দিনের শেষ মেট্রোরেল ছাড়ে রাত সাড়ে ১০টায়। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিলের দিকে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। আগামী মাসে সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাত ১১টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও দিন-তারিখ পরে জানানো হবে।
রাতে ট্রেন চালানোর সময় বাড়াতে প্রয়োজন বাড়তি চালক বা অপারেটর। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, নতুন অপারেটর নিয়োগের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে এবং ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে নতুন অপারেটরদের কাজে যুক্ত করা হবে।
তবে শুধু চালক নিয়োগ করলেই রাতের সময় বাড়ানো সম্ভব নয়। ট্রেন চলাচল শেষ হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি কাজের জন্যও সময় প্রয়োজন। তাই রাতের সময় বাড়ালে এসব কাজ কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা রাখে। প্রকল্প গ্রহণের সময় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে শুরুতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন ধাপে ধাপে চলাচলের সময় বাড়ানো হচ্ছে।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন। প্রকল্পের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই পথে দৈনিক প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী চলাচলের কথা ছিল। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজও চলছে। বর্ধিত অংশটি আগামী বছর চালু হতে পারে; তখন দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছানোর হিসাব রয়েছে।
ঢাকায় মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ট্রেন চললেও পরে ধাপে ধাপে নতুন স্টেশন যুক্ত হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়। এবার রাতের চলাচলের সময় বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মজীবী ও রাতের যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।


























