রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৪০ ফুট খাল পরিষ্কার করে পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্য বাড়াতে টানা ৪৫ দিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একই সঙ্গে এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার সরানো, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের বসিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। পরে তিনি এলাকার ৪০ ফুট খালের সংস্কার কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আগামী ৪৫ দিন খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলবে। খালটিকে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কাজে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার সরিয়ে পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় মানুষের সমর্থন পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানীতে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তার ভাষ্য, এসব যানবাহন সড়কে চলাচল ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং এডিস মশার লার্ভা নির্মূলে নগরবাসীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এ কার্যক্রমে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও সচেতনতামূলক প্রচারে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। বর্জ্য জমে থাকলে মশা-মাছির বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ডিএনসিসি এ দুই কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে।

সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির ১০টি আঞ্চলিক এলাকায় ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানাও করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গত সাত মাসে ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। চলতি বছর ডিএনসিসি এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও কম বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সংস্থাটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।