নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যুক্তির ধার ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন এক কিশোরী। প্রায় তিন দশক পর তাঁর নাম আবারও আলোচনায় এসেছে। তিনি রেবেকা শাফি। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেরিয়ে বর্তমানে তিনি কাজ করছেন মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে। তাঁর শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথচলা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।
রেবেকার শিক্ষাজীবনের একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ব্রিটিশ কারিকুলামেও পড়াশোনা করা। তাঁর নিজের প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি এসএসসি ও এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করেন। একাধিক শিক্ষাক্রমে পড়াশোনার এই অভিজ্ঞতা তাঁর শিক্ষাজীবনকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তবে এসব যোগ্যতার সময়কাল ও বিস্তারিত তথ্য নির্ভরযোগ্য একাডেমিক সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।
উচ্চশিক্ষার জন্য রেবেকা পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি ভর্তি হন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (Caltech), যেখানে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেন বলে তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ জিপিএ অর্জনের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে তাঁর পড়াশোনা পরবর্তী গবেষণার পথ তৈরি করে দেয়।
এরপর তিনি ভর্তি হন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি গবেষণার সময় তাঁর আগ্রহের কেন্দ্র ছিল ব্ল্যাক হোল এবং এর ঘূর্ণন বা স্পিন। মহাবিশ্বের এই রহস্যময় বস্তু কীভাবে আচরণ করে, তার বৈশিষ্ট্য কী এবং ঘূর্ণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদার্থবৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো কীভাবে কাজ করে—এসব প্রশ্ন নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। মহাকাশ ও পদার্থবিদ্যার জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
পরে রেবেকার গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয় মানুষের মস্তিষ্ক ও জীববিজ্ঞানের দিকে। তাঁর পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে (NIMH) রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। সেখানে তাঁর গবেষণার আগ্রহ স্নায়ুবিজ্ঞান ও মানবজিনতত্ত্বের সংযোগস্থলে। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে জিনগত পার্থক্যের সম্পর্ক বোঝার মতো বিষয় এই গবেষণাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। তবে তাঁর বর্তমান পদ ও নির্দিষ্ট গবেষণার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ প্রোফাইল থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিটিভির বিতর্ক প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে Caltech, Harvard হয়ে NIMH—রেবেকা শাফির এই যাত্রা তুলে ধরে শেখার আগ্রহ ও নতুন বিষয় অনুসন্ধানের গুরুত্ব। পদার্থবিদ্যা থেকে স্নায়ুবিজ্ঞানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্পটি দেখায়, গবেষণার জগতে প্রশ্ন করার মানসিকতা ও নতুন জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচিতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা গেলে এই ব্যতিক্রমী পথচলা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য আরও অর্থবহ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন