সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে নৌকাবাইচ। আগামী শুক্রবার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হবে। নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চললেও শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সভাও করা হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এতে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে বারইগ্রাম বাজারে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নৌকাবাইচের আয়োজক এবং আয়োজনের বিরোধিতাকারী পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে আয়োজনটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধেরও সমাধান হয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনার সমাধান করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ায় এখন আয়োজন নিয়ে আর বাধা থাকার কথা নয়।
লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে সোনাই নদীতে এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন আয়োজনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ থাকলেও এবার নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ওঠায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনেরও নজরে আসে।
নৌকাবাইচের আয়োজন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানো হয়। সেই আলোচনাতেই নির্ধারিত সময়ে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া যায়। ফলে গত কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শুক্রবার সোনাই নদীতে প্রতিযোগিতাটি হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
এদিকে নৌকাবাইচকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজনটি নির্ধারিত সময় ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে আয়োজকরাই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় বিরোধের সমাধান হওয়ায় এখন নির্ধারিত দিনেই নৌকাবাইচ হওয়ার কথা রয়েছে।



























