চ্যাম্পিয়নস লিগে কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে জোড়া অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ২৫টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর ৯২ দিন বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন ইয়ামাল। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ফরাসি তারকা এমবাপের দখলে।

মঙ্গলবার রাতে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় বার্সেলোনা। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করান এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফারমিন লোপেজ এবং ৫৩তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে দিয়ে গোল করান তিনি।

এই দুই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোল অবদান দাঁড়ায় ২৫টিতে। এখন পর্যন্ত ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় তাঁর গোল ১২টি এবং অ্যাসিস্ট ১৩টি। অল্প বয়সেই এমন অর্জন তাঁকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে দিয়েছে।

এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি তারকা ২০ বছর ৩০৬ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে ২৫টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এবার তাঁর চেয়ে এক বছরেরও কম বয়সে সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন ইয়ামাল। এতে ইউরোপীয় ফুটবলে তরুণ এই দুই তারকার অর্জন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বার্সেলোনার হয়ে ইয়ামালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তাঁর প্রতিভার পরিচয় আগেই পেয়েছেন সমর্থকেরা। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতাও তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর এমন অবদান বার্সেলোনার আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে অল্প বয়সে ২৫টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার তালিকায় ইয়ামাল ও এমবাপের পাশাপাশি রয়েছেন আর্লিং হলান্ড, জুড বেলিংহাম এবং লিওনেল মেসির মতো তারকারা। এ ছাড়া তালিকায় আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাউল গঞ্জালেস, রদ্রিগো, মারিও গোৎজে ও সেস্ক ফাব্রেগাস।

তবে ইয়ামালের এই অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও পরিচয়। ক্যারিয়ারের শুরুতেই চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে এমন সাফল্য ভবিষ্যতে তাঁকে আরও বড় অর্জনের পথে এগিয়ে নিতে পারে।