ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু: বাংলাদেশে এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক এর যৌথ উদ্যোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫৯

ঢাকায় আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন বাংলাদেশে শুরু করেছে এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক। এতে ডায়াবেটিস রোগীরা কম দামে উন্নত ইনসুলিন পাবেন এবং স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীরা এখন থেকে উন্নত মানের ইনসুলিন সহজে ও কম খরচে পেতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। দেশীয় উৎপাদনের ফলে নির্ভরতা কমবে আমদানির ওপর।

বাংলাদেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Eskayef Pharmaceuticals (এসকেএফ) ডেনমার্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু করেছে। এতে সহযোগিতা করছে Novo Nordisk, যা বিশ্বব্যাপী ইনসুলিন উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

রাজধানীর Pan Pacific Sonargaon হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মত দেন তারা।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ইনসুলিন আমদানি করে ব্যবহার করা হতো। তবে এখন প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে একই মানের ইনসুলিন দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং দাম তুলনামূলক কম হবে। ফলে রোগীরা সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারবেন।

এই আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ হিউম্যান ইনসুলিনের তুলনায় আরও উন্নত এবং কার্যকর। এটি শরীরে দ্রুত কাজ করে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে বেশি সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত হবে।

উৎপাদিত প্রতিটি ইনসুলিনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। এমনকি প্রতিটি ব্যাচ ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে বৈশ্বিক মান বজায় থাকে। এর ফলে রোগীরা নিরাপদ ও কার্যকর ইনসুলিন ব্যবহারের নিশ্চয়তা পাবেন।

বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন উদ্বোধন অনুষ্ঠান
ঢাকায় আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশে আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওষুধের গুণগত মানে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি উৎপাদকদের কাছে ইনসুলিনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, এটি শুধু একটি অর্জন নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা। এই প্রযুক্তি দেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এই খাতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কর্মীদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ওষুধ উৎপাদনে সহায়ক হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশীয়ভাবে ইনসুলিন উৎপাদন বাড়লে রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা পেতে আরও সুবিধা পাবেন।

এই উদ্যোগ শুধু ডায়াবেটিস চিকিৎসা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের ওষুধ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বায়োটেকনোলজি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য জটিল ওষুধ উৎপাদনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি রোগীদের জন্য যেমন সুবিধা নিয়ে আসবে, তেমনি দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ দ্রুতই উন্নত ওষুধ উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু: বাংলাদেশে এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক এর যৌথ উদ্যোগ

Update Time : ০৯:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন বাংলাদেশে শুরু করেছে এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক। এতে ডায়াবেটিস রোগীরা কম দামে উন্নত ইনসুলিন পাবেন এবং স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীরা এখন থেকে উন্নত মানের ইনসুলিন সহজে ও কম খরচে পেতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। দেশীয় উৎপাদনের ফলে নির্ভরতা কমবে আমদানির ওপর।

বাংলাদেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Eskayef Pharmaceuticals (এসকেএফ) ডেনমার্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু করেছে। এতে সহযোগিতা করছে Novo Nordisk, যা বিশ্বব্যাপী ইনসুলিন উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

রাজধানীর Pan Pacific Sonargaon হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মত দেন তারা।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু মৌসুমে ১ লাখ স্যালাইন অনুদান দিল ওষুধ শিল্প, ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রস্তুত সরকার

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ইনসুলিন আমদানি করে ব্যবহার করা হতো। তবে এখন প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে একই মানের ইনসুলিন দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং দাম তুলনামূলক কম হবে। ফলে রোগীরা সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারবেন।

এই আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ হিউম্যান ইনসুলিনের তুলনায় আরও উন্নত এবং কার্যকর। এটি শরীরে দ্রুত কাজ করে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে বেশি সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত হবে।

উৎপাদিত প্রতিটি ইনসুলিনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। এমনকি প্রতিটি ব্যাচ ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে বৈশ্বিক মান বজায় থাকে। এর ফলে রোগীরা নিরাপদ ও কার্যকর ইনসুলিন ব্যবহারের নিশ্চয়তা পাবেন।

আরও পড়ুন  ফোনের ব্লু লাইট কি সত্যিই আপনার ঘুম নষ্ট করছে? বাস্তব সত্য জানুন
বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন উদ্বোধন অনুষ্ঠান
ঢাকায় আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশে আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওষুধের গুণগত মানে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি উৎপাদকদের কাছে ইনসুলিনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, এটি শুধু একটি অর্জন নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা। এই প্রযুক্তি দেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এই খাতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কর্মীদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ওষুধ উৎপাদনে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন  ক্যানসারে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে সোয়া লাখ মানুষ, বাড়ছে ঝুঁকি

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশীয়ভাবে ইনসুলিন উৎপাদন বাড়লে রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা পেতে আরও সুবিধা পাবেন।

এই উদ্যোগ শুধু ডায়াবেটিস চিকিৎসা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের ওষুধ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বায়োটেকনোলজি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য জটিল ওষুধ উৎপাদনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি রোগীদের জন্য যেমন সুবিধা নিয়ে আসবে, তেমনি দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ দ্রুতই উন্নত ওষুধ উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।