বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষ হতেই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়ি। যাতায়াতের চাপ, বিশ্রামের ঘাটতি এবং বারবার ভ্রমণের কারণে দলটি বড় ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরান কোচ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে ইরান। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে ম্যাচ-পরবর্তী ভ্রমণসূচিই বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আমির গালেনোয়ি। তিনি জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দলকে দ্রুত লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে আবার মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানের বেস ক্যাম্পে পরিবর্তন আনা হয়। শুরুতে অ্যারিজোনায় অবস্থানের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায়। অথচ গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে।
এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে ইরান দলকে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম, বিমান ভ্রমণ এবং আনুষঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতাও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এতে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গালেনোয়ি বলেন, যাতায়াতেই আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে। খেলোয়াড়দের রিকোভারির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই দ্রুত ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি একটি দলের জন্য মোটেও আদর্শ নয়। খেলোয়াড়দের শরীর ঠিক রাখতে বিশ্রাম, চিকিৎসা এবং অনুশীলনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার। কিন্তু বর্তমান সূচিতে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
ইরান কোচের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে সম্ভবত তার দলই সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। কারণ মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি লজিস্টিক সমস্যার সঙ্গেও তাদের লড়াই করতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাপ মানসিকভাবেও খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপ তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক দলকেই ভ্রমণজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ তাদের বেস ক্যাম্প এক দেশে এবং ম্যাচগুলো অন্য দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনাগত বিষয়ও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই ইরানের এই অভিযোগ ভবিষ্যতে আয়োজকদের পরিকল্পনা ও দলগুলোর লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে এই পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসে কি না।




























