ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাংলাদেশকে কত দামে বিক্রি করেছিল হারকিউলিস উড়োজাহাজ

কত দামে বাংলাদেশকে বিক্রি করেছিল উড়োজাহাজ, প্রকাশ করল না ব্রিটিশ সরকার

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে বিক্রি করা পাঁচটি সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস উড়োজাহাজের দাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি)। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হলেও ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এই তথ্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে কোন কোন উড়োজাহাজ বাংলাদেশকে বিক্রি করা হয়েছে এবং সেগুলো কখন হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে পাঁচটি উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিক্রি হওয়া উড়োজাহাজগুলো ছিল ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বহরে ব্যবহৃত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Lockheed Martin তৈরি করেছিল এবং প্রায় দুই দশক ব্রিটিশ বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

যুক্তরাজ্য সরকার নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস এ-৪০০এম অ্যাটলাস পরিবহন বিমান বহরে যুক্ত করার পর পুরোনো হারকিউলিস উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরোনো বিমানগুলো অবসরে পাঠানো হয় এবং পরে বাংলাদেশকে বিক্রি করা হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে দেওয়া পাঁচটি বিমানের মধ্যে দুটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, একটি ২০১৯ সালের জুনে এবং বাকি দুটি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর করা হয়। উড়োজাহাজগুলোর আরএএফ সিরিয়াল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

সেগুলো হলো জেডএইচ-৮৮১, জেডএইচ-৮৮২, জেডএইচ-৮৮৩, জেডএইচ-৮৮৪ এবং জেডএইচ-৮৮৭। এসব উড়োজাহাজ ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বহরে যুক্ত হয়েছিল এবং ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প অংশীদারদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এসব তথ্য তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৪৩(২)-এর আওতায় ‘বাণিজ্যিক স্বার্থ’ হিসেবে সুরক্ষিত। ফলে চুক্তির মূল্য, সংস্কার ব্যয়, প্রশিক্ষণ ব্যয়, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, দরপত্রসংক্রান্ত কিছু তথ্য প্রকাশ পেলে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্য সুবিধা পেতে পারে। দীর্ঘদিনের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সামরিক দরপত্রের তথ্য সাধারণত প্রকাশ করা হয় না বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

এই তথ্য জানার জন্য প্রথমে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে আবেদন করা হয়েছিল। পরে হাউস অব কমন্সের ইনফরমেশন কমপ্লায়েন্স সার্ভিস জানায়, বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় তাদের কাছে এ–সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত নেই।

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট বিভাগের কাছে আবেদন করা হলে তারা আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়। সেখানে নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সব আর্থিক তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, তবে তা প্রকাশযোগ্য নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিক্রয়মূল্য গোপন রাখার আগে জনস্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেখানে স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চুক্তির সঙ্গে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ) বা অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা সংস্থা যুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ এই বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সরকারি রপ্তানি সহায়তা ব্যবস্থার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই সুপার হারকিউলিস উড়োজাহাজগুলো সংগ্রহ করে। সামরিক পরিবহন, মানবিক সহায়তা, শান্তিরক্ষা মিশন এবং জরুরি লজিস্টিক সহায়তায় এ ধরনের বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

উড়োজাহাজগুলো কেনার পর যুক্তরাজ্যের Marshall Aerospace এর মাধ্যমে সেগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। আধুনিক এভিওনিকস, মিশন সিস্টেম এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়িয়ে বিমানগুলোকে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

যদিও সরকারিভাবে চুক্তির মূল্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী প্রতিটি সংস্কারকৃত সি-১৩০জে বিমানের দাম আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। সেই হিসাবে পাঁচটি বিমানের মোট মূল্য কয়েকশ কোটি ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখনো সি-১৩০জে হারকিউলিস উড়োজাহাজকে নির্ভরযোগ্য সামরিক পরিবহন বিমান হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় সরঞ্জাম পরিবহন, সেনা মোতায়েন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এই বিমানের সক্ষমতা অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও ২০২৫ সালে তুরস্ক একই ধরনের হারকিউলিস উড়োজাহাজ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে কিনেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচলবিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তুরস্ক মোট ১২টি সাবেক আরএএফ সি-১৩০জে-৩০ উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনা The Aviationist–এর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের এই পুরো প্রকল্পে প্রায় ৭৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এর মধ্যে বিমান হস্তান্তর, কাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংস্কার, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্যাকেজ যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের গোপনীয়তার কারণে চুক্তির প্রকৃত ব্যয় এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এ ধরনের গোপনীয়তা নতুন কিছু নয়। অনেক দেশই অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য ও প্রযুক্তিগত বিবরণ গোপন রাখে, যাতে ভবিষ্যৎ দরপত্র ও কৌশলগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বড় সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ জনগণের করের অর্থে হওয়া বড় প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তথ্য গোপন রাখলে জনমনে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

বাংলাদেশকে কত দামে বিক্রি করেছিল হারকিউলিস উড়োজাহাজ

Update Time : ০১:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে বিক্রি করা পাঁচটি সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস উড়োজাহাজের দাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি)। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হলেও ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এই তথ্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে কোন কোন উড়োজাহাজ বাংলাদেশকে বিক্রি করা হয়েছে এবং সেগুলো কখন হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে পাঁচটি উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিক্রি হওয়া উড়োজাহাজগুলো ছিল ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বহরে ব্যবহৃত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Lockheed Martin তৈরি করেছিল এবং প্রায় দুই দশক ব্রিটিশ বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

যুক্তরাজ্য সরকার নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস এ-৪০০এম অ্যাটলাস পরিবহন বিমান বহরে যুক্ত করার পর পুরোনো হারকিউলিস উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরোনো বিমানগুলো অবসরে পাঠানো হয় এবং পরে বাংলাদেশকে বিক্রি করা হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে দেওয়া পাঁচটি বিমানের মধ্যে দুটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, একটি ২০১৯ সালের জুনে এবং বাকি দুটি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর করা হয়। উড়োজাহাজগুলোর আরএএফ সিরিয়াল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

সেগুলো হলো জেডএইচ-৮৮১, জেডএইচ-৮৮২, জেডএইচ-৮৮৩, জেডএইচ-৮৮৪ এবং জেডএইচ-৮৮৭। এসব উড়োজাহাজ ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বহরে যুক্ত হয়েছিল এবং ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

আরও পড়ুন  চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা অপূর্ণই রইল, হারাচ্ছে বৈশ্বিক বাজার

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প অংশীদারদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এসব তথ্য তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৪৩(২)-এর আওতায় ‘বাণিজ্যিক স্বার্থ’ হিসেবে সুরক্ষিত। ফলে চুক্তির মূল্য, সংস্কার ব্যয়, প্রশিক্ষণ ব্যয়, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, দরপত্রসংক্রান্ত কিছু তথ্য প্রকাশ পেলে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্য সুবিধা পেতে পারে। দীর্ঘদিনের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সামরিক দরপত্রের তথ্য সাধারণত প্রকাশ করা হয় না বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

এই তথ্য জানার জন্য প্রথমে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে আবেদন করা হয়েছিল। পরে হাউস অব কমন্সের ইনফরমেশন কমপ্লায়েন্স সার্ভিস জানায়, বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় তাদের কাছে এ–সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত নেই।

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট বিভাগের কাছে আবেদন করা হলে তারা আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়। সেখানে নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সব আর্থিক তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, তবে তা প্রকাশযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন  মে মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিক্রয়মূল্য গোপন রাখার আগে জনস্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেখানে স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চুক্তির সঙ্গে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ) বা অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা সংস্থা যুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ এই বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সরকারি রপ্তানি সহায়তা ব্যবস্থার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই সুপার হারকিউলিস উড়োজাহাজগুলো সংগ্রহ করে। সামরিক পরিবহন, মানবিক সহায়তা, শান্তিরক্ষা মিশন এবং জরুরি লজিস্টিক সহায়তায় এ ধরনের বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

উড়োজাহাজগুলো কেনার পর যুক্তরাজ্যের Marshall Aerospace এর মাধ্যমে সেগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। আধুনিক এভিওনিকস, মিশন সিস্টেম এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়িয়ে বিমানগুলোকে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

যদিও সরকারিভাবে চুক্তির মূল্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী প্রতিটি সংস্কারকৃত সি-১৩০জে বিমানের দাম আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। সেই হিসাবে পাঁচটি বিমানের মোট মূল্য কয়েকশ কোটি ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখনো সি-১৩০জে হারকিউলিস উড়োজাহাজকে নির্ভরযোগ্য সামরিক পরিবহন বিমান হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় সরঞ্জাম পরিবহন, সেনা মোতায়েন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এই বিমানের সক্ষমতা অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত, প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

বাংলাদেশ ছাড়াও ২০২৫ সালে তুরস্ক একই ধরনের হারকিউলিস উড়োজাহাজ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে কিনেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচলবিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তুরস্ক মোট ১২টি সাবেক আরএএফ সি-১৩০জে-৩০ উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনা The Aviationist–এর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের এই পুরো প্রকল্পে প্রায় ৭৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এর মধ্যে বিমান হস্তান্তর, কাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংস্কার, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্যাকেজ যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের গোপনীয়তার কারণে চুক্তির প্রকৃত ব্যয় এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এ ধরনের গোপনীয়তা নতুন কিছু নয়। অনেক দেশই অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য ও প্রযুক্তিগত বিবরণ গোপন রাখে, যাতে ভবিষ্যৎ দরপত্র ও কৌশলগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বড় সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ জনগণের করের অর্থে হওয়া বড় প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তথ্য গোপন রাখলে জনমনে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।