ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটির নকআউট ম্যাচের রোমাঞ্চ

কানসাস সিটির বিশাল স্টেডিয়ামে কলম্বিয়া বনাম ঘানার নকআউট ম্যাচের চমৎকার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

সাধারণত আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি সহ পুরো দেশে ফুটবল বা সকার খুব একটা জনপ্রিয় খেলা না হলেও, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সেখানে এখন এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চারদিকে ব্যানার, ফেস্টুন আর পতাকার সাথে খেলা দেখার জন্য বিভিন্ন স্পোর্টস রেস্টুরেন্টে ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হচ্ছে।

লটারির মাধ্যমে সোনার হরিণ খ্যাত টিকিট সংগ্রহ করে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে একদল বাঙালি ফুটবলপ্রেমী ৩ জুলাইয়ের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর নকআউট ম্যাচ দেখতে হাজির হন কানসাস সিটিতে। তারা উইচিটা শহরে নেমে এবং স্থানীয় ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালের ২৫ হাজার মানুষের বিশাল আয়োজনের সাথে যুক্ত হয়ে আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি-র আসল উন্মাদনা উপভোগ করেন।

গ্রুপ পর্বের নাটকীয়তা শেষে স্টেডিয়ামে বসে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পর্তুগালের নাটকীয় জয় এবং কিংবদন্তি লুকা মদরিচের বিদায় দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। এর ঠিক পরপরই কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দুই পরাশক্তি কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২-এর হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচটি শুরু হয়।

৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সেই বিশাল স্টেডিয়ামে আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি-র মাঠের আসল রূপ দেখা যায়, যেখানে পুরো গ্যালারি কলম্বিয়ার সমর্থক ও তাদের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে ছেয়ে গিয়েছিল। মাঠের ভেতরে ভুভুজেলা, ঢোলের আওয়াজ আর কলম্বিয়ান দর্শকদের সমস্বরের গান পুরো স্টেডিয়ামে এক অনবদ্য ও রোমাঞ্চকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল।

১-০ গোলে কলম্বিয়ার ঐতিহাসিক জয়ের পর পুরো স্টেডিয়াম আতশবাজি আর গগনবিদারী চিৎকারে কেঁপে ওঠে, যা আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালের আতশবাজির আলোর সাথে মিলে একাকার হয়ে যায়। সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের এই বাঁধভাঙা জোয়ার প্রমাণ করে যে, আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি কেবল খেলা নয়, বরং জীবনের এক রঙিন উৎসব।

ব্যয়বহুল এই ফুটবল ট্যুরটি প্রবাসী বাঙালিদের জন্য মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের বাইরে হলেও, স্টেডিয়ামের লাইট শো ও মাঠের জীবন্ত উত্তাপ তাদের জীবনে সারাজীবন মনে রাখার মতো এক সোনালী স্মৃতি হয়ে থাকবে। রেফারির শেষ বাঁশির পর কলম্বিয়ানদের নেচে-গেয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যটি আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি-র এই মিলনমেলাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটির নকআউট ম্যাচের রোমাঞ্চ

Update Time : ১১:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সাধারণত আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি সহ পুরো দেশে ফুটবল বা সকার খুব একটা জনপ্রিয় খেলা না হলেও, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সেখানে এখন এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চারদিকে ব্যানার, ফেস্টুন আর পতাকার সাথে খেলা দেখার জন্য বিভিন্ন স্পোর্টস রেস্টুরেন্টে ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হচ্ছে।

লটারির মাধ্যমে সোনার হরিণ খ্যাত টিকিট সংগ্রহ করে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে একদল বাঙালি ফুটবলপ্রেমী ৩ জুলাইয়ের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর নকআউট ম্যাচ দেখতে হাজির হন কানসাস সিটিতে। তারা উইচিটা শহরে নেমে এবং স্থানীয় ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালের ২৫ হাজার মানুষের বিশাল আয়োজনের সাথে যুক্ত হয়ে আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি-র আসল উন্মাদনা উপভোগ করেন।

আরও পড়ুন  রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগালের একাদশ ঘোষণা

গ্রুপ পর্বের নাটকীয়তা শেষে স্টেডিয়ামে বসে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পর্তুগালের নাটকীয় জয় এবং কিংবদন্তি লুকা মদরিচের বিদায় দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। এর ঠিক পরপরই কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দুই পরাশক্তি কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২-এর হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচটি শুরু হয়।

৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সেই বিশাল স্টেডিয়ামে আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি-র মাঠের আসল রূপ দেখা যায়, যেখানে পুরো গ্যালারি কলম্বিয়ার সমর্থক ও তাদের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে ছেয়ে গিয়েছিল। মাঠের ভেতরে ভুভুজেলা, ঢোলের আওয়াজ আর কলম্বিয়ান দর্শকদের সমস্বরের গান পুরো স্টেডিয়ামে এক অনবদ্য ও রোমাঞ্চকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল।

আরও পড়ুন  লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫

১-০ গোলে কলম্বিয়ার ঐতিহাসিক জয়ের পর পুরো স্টেডিয়াম আতশবাজি আর গগনবিদারী চিৎকারে কেঁপে ওঠে, যা আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালের আতশবাজির আলোর সাথে মিলে একাকার হয়ে যায়। সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের এই বাঁধভাঙা জোয়ার প্রমাণ করে যে, আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি কেবল খেলা নয়, বরং জীবনের এক রঙিন উৎসব।

আরও পড়ুন  গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিল চীন? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর নথি

ব্যয়বহুল এই ফুটবল ট্যুরটি প্রবাসী বাঙালিদের জন্য মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের বাইরে হলেও, স্টেডিয়ামের লাইট শো ও মাঠের জীবন্ত উত্তাপ তাদের জীবনে সারাজীবন মনে রাখার মতো এক সোনালী স্মৃতি হয়ে থাকবে। রেফারির শেষ বাঁশির পর কলম্বিয়ানদের নেচে-গেয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যটি আমেরিকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ও কানসাস সিটি-র এই মিলনমেলাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।