ব্যভিচার ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় বুধবার (১০ জুন) ঢাকার আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ মামলার রায় আসে।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। ফলে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রচলিত নীতির আলোকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
এই মামলাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মীর সাবেক স্বামী মো. রাকিব হাসান আদালতে নাসির হোসেন ও তামিমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, রাকিব হাসানের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করেই তামিমা নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও ব্যভিচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলতে থাকে। বিশেষ করে জাতীয় দলের পরিচিত ক্রিকেটার হওয়ায় নাসির হোসেনের নাম বারবার সংবাদ শিরোনামে আসে।
মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মিজানুর রহমান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মী এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির হোসেন ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং বিভিন্ন নথিপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে।
মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ নিজেদের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। বিচারক মামলার উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ প্রমাণের জন্য সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হয়। আদালত মনে করেছেন, এ মামলায় সেই মানদণ্ড পূরণ হয়নি। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ টেকসই হয়নি।
রায় ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আলোচিত এ মামলার বিচারিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মী আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেলেন।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ও গণমাধ্যমে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত একটি মামলার পরিসমাপ্তি ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষ চাইলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
বর্তমান রায়ের ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ব্যভিচার ও প্রতারণার অভিযোগ কার্যকরভাবে খারিজ হয়ে গেল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।



























