ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য Logo ব্রাজিলের খারাপ সময়ও অনেক দলের সেরা সময়ের চেয়ে বড় Logo জুলাইয়ের আহতদের পাশে প্রশাসন, পুনর্বাসনের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের Logo তারকা জুটির বিলাসবহুল বিয়ে ঘিরে ক্ষোভ, ইতালির শহরে প্রতিবাদে নামলেন বাসিন্দারা Logo স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়, আপিলে শুনানি কাল Logo ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ: নতুন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় উত্তেজনা Logo ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়া দেশগুলো: বিশ্ব ফুটবলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড Logo কাজী শায়রুল হাসান চেয়ারম্যান: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের শক্তিশালী সূচনা Logo গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় ; কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন Logo শাবনূরকে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় মুগ্ধ করলেন পূর্ণিমা

বিশ্বকাপ ২০২৬: শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কোন দল?

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে স্পেন ও ফ্রান্স, কাছাকাছি অবস্থানে ইংল্যান্ড, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আসরের। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় এবং বুকমেকারদের আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকটি দেশের নাম, যাদেরকে শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফুটবলে ফেবারিটের তকমা পাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল সব সময় ট্রফি জিততে পারে না। ইনজুরি, চাপ, ভাগ্য এবং নির্দিষ্ট দিনে পারফরম্যান্স—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের গভীরতা এবং অভিজ্ঞতার বিচারে ছয়টি দলকে এবার সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

এই তালিকায় রয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, বর্তমান শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ভারে থাকা ইংল্যান্ড, প্রতিভায় ভরপুর পর্তুগাল এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রত্যেক দলেরই রয়েছে নিজস্ব শক্তি, আবার কিছু দুর্বলতাও রয়েছে যা তাদের পথ কঠিন করে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর একটি স্পেন। ইউরো ২০২৪ জয়, নেশনস লিগে সাফল্য এবং বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিক আধিপত্য স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন উত্থানের বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বল দখলভিত্তিক খেলার জন্য পরিচিত দলটি এখন আরও সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে।

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের খেলায় এসেছে বৈচিত্র্য। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, উইং ব্যবহার এবং উচ্চ প্রেসিংয়ের সমন্বয়ে তারা প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। তার পাশাপাশি পেড্রি ও নিকো উইলিয়ামস স্পেনের আক্রমণভাগে গতি ও সৃজনশীলতা যোগ করেছেন।

তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রক্ষণভাগ। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সময় তারা কাউন্টার অ্যাটাকে বিপদে পড়ে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই দুর্বলতা তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বকাপের অন্যতম ধারাবাহিক দল হিসেবে ফ্রান্স আবারও শিরোপা জয়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালেও ফাইনাল খেলেছিল তারা। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সুযোগ এবার তাদের সামনে রয়েছে।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি কিলিয়ান এমবাপ্পে। বড় ম্যাচে পারফর্ম করার অসাধারণ সামর্থ্য, গতি এবং গোল করার দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার উপস্থিতি একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে এবং অন্যান্য তারকারা ফরাসি আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগেও রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সমন্বয়। ফলে স্কোয়াডের গভীরতায় অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স।

দিদিয়ের দেশমের নেতৃত্বও ফ্রান্সের বড় সম্পদ। দীর্ঘদিন একই কোচের অধীনে খেলার কারণে দলটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এই বিশ্বকাপের পর দেশম দায়িত্ব ছাড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা একটি সফল যুগের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে তারা। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে দলটি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে।

লিওনেল মেসি এখনও দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে আলাদা মাত্রা দেয়। মাঠে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা এখনও দলের জন্য অমূল্য সম্পদ।

আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গা শুধু মেসি নন, পুরো দল। গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রক্ষণে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ দলটিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের কৌশল বদলানোর ক্ষমতাও তাদের বড় সম্পদ।

তবে মেসির বয়স এবং ফিটনেস নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে তিনি কতটা কার্যকর থাকতে পারবেন, সেটি আর্জেন্টিনার সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পর্তুগালকে এবার অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ডার্ক হর্স’ নয়, বরং সরাসরি শিরোপার দাবিদার হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি প্রতিভা এবং অভিজ্ঞতার দুর্দান্ত সমন্বয় গড়ে তুলেছে। নেশনস লিগ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও তার গোল করার ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য রূপকথার সমাপ্তির গল্প।

ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা এবং ভিটিনহার মতো মিডফিল্ডাররা পর্তুগালের খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে নুনো মেন্দেসের মতো খেলোয়াড়রা আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই অবদান রাখছেন।

কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে দলটি আরও আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবল খেলছে। তবে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারার ইতিহাস এখনও তাদের জন্য একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে রয়েছে।

ইংল্যান্ডকে নিয়ে প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি থাকে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন খুব কম দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি তারা। তবুও এবার আবারও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইংলিশরা।

বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। আট ম্যাচে আট জয় এবং কোনো গোল না খাওয়ার রেকর্ড দলটির রক্ষণভাগের শক্তি তুলে ধরে। একই সঙ্গে আক্রমণভাগও ছিল কার্যকর।

হ্যারি কেইন এখনও দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলদাতা। তার সঙ্গে জুড বেলিংহাম এবং বুকায়ো সাকার মতো তারকারা ইংল্যান্ডকে আক্রমণে ভয়ংকর করে তুলেছেন। সেট-পিস এবং আকাশপথের খেলায়ও দলটি সব সময় শক্তিশালী।

নতুন কোচ থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড আরও সংগঠিত হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, দলটি এখনও কেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। তিনি ছন্দে না থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কখনোই বিশ্বকাপের আলোচনার বাইরে রাখা যায় না। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি সেলেসাওরা, তবুও তাদের প্রতিভার ভাণ্ডার এখনও বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ।

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। আগের তুলনায় দলটি এখন বেশি ভারসাম্যপূর্ণ এবং রক্ষণভাগে স্থিতিশীল হওয়ার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভিনিসিউস জুনিয়র বর্তমানে দলের সবচেয়ে বড় তারকা। তার সঙ্গে রাফিনহা এবং তরুণ এন্ড্রিক আক্রমণে নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছেন। গতি, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ব্রাজিল এখনও যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর।

তবে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা ব্রাজিলের জন্য বড় উদ্বেগ। পাশাপাশি নতুন কৌশলের সঙ্গে পুরো দল কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে আছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, ফেবারিট হিসেবে শুরু করলেই ট্রফি নিশ্চিত হয় না। অনেক সময় তুলনামূলক কম আলোচিত দলও চমক দেখিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। তাই স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল কিংবা ব্রাজিল—কেউই নিশ্চিতভাবে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন বলতে পারে না।

তবে বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই ছয় দলই শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কে শেষ পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারে এবং কার হাতে ওঠে ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য

বিশ্বকাপ ২০২৬: শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কোন দল?

Update Time : ০২:০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আসরের। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় এবং বুকমেকারদের আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকটি দেশের নাম, যাদেরকে শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফুটবলে ফেবারিটের তকমা পাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল সব সময় ট্রফি জিততে পারে না। ইনজুরি, চাপ, ভাগ্য এবং নির্দিষ্ট দিনে পারফরম্যান্স—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের গভীরতা এবং অভিজ্ঞতার বিচারে ছয়টি দলকে এবার সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

এই তালিকায় রয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, বর্তমান শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ভারে থাকা ইংল্যান্ড, প্রতিভায় ভরপুর পর্তুগাল এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রত্যেক দলেরই রয়েছে নিজস্ব শক্তি, আবার কিছু দুর্বলতাও রয়েছে যা তাদের পথ কঠিন করে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর একটি স্পেন। ইউরো ২০২৪ জয়, নেশনস লিগে সাফল্য এবং বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিক আধিপত্য স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন উত্থানের বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বল দখলভিত্তিক খেলার জন্য পরিচিত দলটি এখন আরও সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে।

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের খেলায় এসেছে বৈচিত্র্য। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, উইং ব্যবহার এবং উচ্চ প্রেসিংয়ের সমন্বয়ে তারা প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। তার পাশাপাশি পেড্রি ও নিকো উইলিয়ামস স্পেনের আক্রমণভাগে গতি ও সৃজনশীলতা যোগ করেছেন।

তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রক্ষণভাগ। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সময় তারা কাউন্টার অ্যাটাকে বিপদে পড়ে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই দুর্বলতা তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ U-19 মেন্টর হতে পারেন, BCB’র সঙ্গে আলোচনা চলছে

বিশ্বকাপের অন্যতম ধারাবাহিক দল হিসেবে ফ্রান্স আবারও শিরোপা জয়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালেও ফাইনাল খেলেছিল তারা। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সুযোগ এবার তাদের সামনে রয়েছে।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি কিলিয়ান এমবাপ্পে। বড় ম্যাচে পারফর্ম করার অসাধারণ সামর্থ্য, গতি এবং গোল করার দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার উপস্থিতি একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে এবং অন্যান্য তারকারা ফরাসি আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগেও রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সমন্বয়। ফলে স্কোয়াডের গভীরতায় অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স।

দিদিয়ের দেশমের নেতৃত্বও ফ্রান্সের বড় সম্পদ। দীর্ঘদিন একই কোচের অধীনে খেলার কারণে দলটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এই বিশ্বকাপের পর দেশম দায়িত্ব ছাড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা একটি সফল যুগের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে তারা। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে দলটি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে।

লিওনেল মেসি এখনও দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে আলাদা মাত্রা দেয়। মাঠে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা এখনও দলের জন্য অমূল্য সম্পদ।

আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গা শুধু মেসি নন, পুরো দল। গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রক্ষণে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ দলটিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের কৌশল বদলানোর ক্ষমতাও তাদের বড় সম্পদ।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধে নতুন বিতর্ক

তবে মেসির বয়স এবং ফিটনেস নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে তিনি কতটা কার্যকর থাকতে পারবেন, সেটি আর্জেন্টিনার সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পর্তুগালকে এবার অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ডার্ক হর্স’ নয়, বরং সরাসরি শিরোপার দাবিদার হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি প্রতিভা এবং অভিজ্ঞতার দুর্দান্ত সমন্বয় গড়ে তুলেছে। নেশনস লিগ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও তার গোল করার ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য রূপকথার সমাপ্তির গল্প।

ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা এবং ভিটিনহার মতো মিডফিল্ডাররা পর্তুগালের খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে নুনো মেন্দেসের মতো খেলোয়াড়রা আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই অবদান রাখছেন।

কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে দলটি আরও আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবল খেলছে। তবে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারার ইতিহাস এখনও তাদের জন্য একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে রয়েছে।

ইংল্যান্ডকে নিয়ে প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি থাকে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন খুব কম দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি তারা। তবুও এবার আবারও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইংলিশরা।

বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। আট ম্যাচে আট জয় এবং কোনো গোল না খাওয়ার রেকর্ড দলটির রক্ষণভাগের শক্তি তুলে ধরে। একই সঙ্গে আক্রমণভাগও ছিল কার্যকর।

হ্যারি কেইন এখনও দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলদাতা। তার সঙ্গে জুড বেলিংহাম এবং বুকায়ো সাকার মতো তারকারা ইংল্যান্ডকে আক্রমণে ভয়ংকর করে তুলেছেন। সেট-পিস এবং আকাশপথের খেলায়ও দলটি সব সময় শক্তিশালী।

আরও পড়ুন  শেষ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সামনে যেসব ঐতিহাসিক রেকর্ড

নতুন কোচ থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড আরও সংগঠিত হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, দলটি এখনও কেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। তিনি ছন্দে না থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কখনোই বিশ্বকাপের আলোচনার বাইরে রাখা যায় না। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি সেলেসাওরা, তবুও তাদের প্রতিভার ভাণ্ডার এখনও বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ।

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। আগের তুলনায় দলটি এখন বেশি ভারসাম্যপূর্ণ এবং রক্ষণভাগে স্থিতিশীল হওয়ার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভিনিসিউস জুনিয়র বর্তমানে দলের সবচেয়ে বড় তারকা। তার সঙ্গে রাফিনহা এবং তরুণ এন্ড্রিক আক্রমণে নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছেন। গতি, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ব্রাজিল এখনও যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর।

তবে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা ব্রাজিলের জন্য বড় উদ্বেগ। পাশাপাশি নতুন কৌশলের সঙ্গে পুরো দল কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে আছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, ফেবারিট হিসেবে শুরু করলেই ট্রফি নিশ্চিত হয় না। অনেক সময় তুলনামূলক কম আলোচিত দলও চমক দেখিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। তাই স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল কিংবা ব্রাজিল—কেউই নিশ্চিতভাবে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন বলতে পারে না।

তবে বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই ছয় দলই শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কে শেষ পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারে এবং কার হাতে ওঠে ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।