নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে মো. ইমন (১০) নামের এক মাদরাসাছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনামিয়া স্টেডিয়াম সংলগ্ন পারটেক্স পেপার মিলের সামনে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বাবা মিলন মিয়ার সঙ্গে সোনামিয়া স্টেডিয়াম এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে আসে ইমন।
দুপুরের দিকে কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামে সে। গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ করে পানির গভীরে তলিয়ে যায় ইমন।
সঙ্গে থাকা শিশুরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত তার বাবাকে খবর দেয়। পরে বাবা ও স্থানীয়রা নদীতে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর ডুবুরি দল নদী থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মো. ইমন ঢাকার ডেমরা থানার বড় ভাঙ্গা (সারুলিয়া) এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মিলন মিয়া পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা এবং মা মমতাজ বেগম।
ইমন স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে জীবিকার প্রয়োজনে বাবার কাজে সহযোগিতা করতে প্রায়ই সোনামিয়া স্টেডিয়াম এলাকায় আসত বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা নিয়মিত গোসল করতে নামে। তবে অনেক জায়গায় পানির গভীরতা ও স্রোত সম্পর্কে ধারণা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুদের নদীতে একা গোসল না করার বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























