বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ব্র্যাকেট এমন এক সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চিত করতে যথেষ্ট। সব হিসাব মিললে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তবে সেই মহারণ দেখতে হলে দুই দলকেই নিজেদের পথে থাকা সব বাধা পেরোতে হবে।
গ্রুপ পর্বে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও একই ব্যবধানে জয় পেয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে তারা।
সাত পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং উন্নত গোল ব্যবধানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ফলে নকআউট পর্বে তাদের সম্ভাব্য পথও এখন অনেকটাই পরিষ্কার। সেই পথ অনুসরণ করেই সামনে এসেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সম্ভাব্য সেমিফাইনালের সমীকরণ।
নকআউটের প্রথম ধাপ অর্থাৎ শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী নেদারল্যান্ডস, জাপান কিংবা সুইডেনের মধ্যে কোনো একটি দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে হতে পারে ব্রাজিলকে। শুরুতেই তাই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।
যদি প্রথম ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে যায়, তাহলে শেষ ষোলোতে আরও একটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করবে সেলেসাওদের জন্য। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ম্যাচ ৭৬-এর বিজয়ী দল। মূলত ‘ই’ এবং ‘আই’ গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যকার লড়াই থেকে উঠে আসা কোনো দলের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে পারলে সামনে আসবে কোয়ার্টার ফাইনাল। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিপক্ষের মান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্র্যাকেটের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী মেক্সিকো কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী কোনো দলের সঙ্গে দেখা হতে পারে ব্রাজিলের।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের অংশের সমান কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে। ‘জে’ গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রেখে নকআউট পর্বে এগিয়ে যেতে পারলেই কেবল সেমিফাইনালের স্বপ্ন বেঁচে থাকবে আলবিসেলেস্তেদের। প্রতিটি ধাপে জয় ছাড়া অন্য কোনো ফল তাদের সেই সম্ভাবনা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
বিশ্বকাপের ব্র্যাকেট অনুযায়ী দুই দলই যদি শেষ ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথগুলোর একটি। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার লড়াই শুধু দুই দলের ম্যাচ নয়, এটি কোটি কোটি সমর্থকের আবেগেরও সংঘর্ষ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দুই দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন ম্যাচকে আলাদা মাত্রা দেয়। ফলে সম্ভাব্য সেমিফাইনাল নিয়েও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।
তবে আপাতত সবকিছুই নির্ভর করছে নকআউট পর্বের ফলাফলের ওপর। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিজেদের পথে অপরাজিত থেকে এগিয়ে যেতে পারলেই বাস্তবে রূপ নেবে এই স্বপ্নের লড়াই। আর সেটি সম্ভব হলে ফুটবল বিশ্ব পেতে পারে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি।
সেমিফাইনালের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে দুই দলের যেকোনো একটির সামনে অপেক্ষা করতে পারে ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা স্পেনের মতো দলগুলোও শিরোপার দৌড়ে রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের শেষভাগে উত্তেজনা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




























