ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাগলনাইয়ায় থামছেই না ট্রান্সফরমার চুরি, সক্রিয় চোরচক্র

ছাগলনাইয়ায় ট্রান্সফরমার চুরি। ছবি: সংগৃহীত

ছাগলনাইয়া ট্রান্সফরমার চুরি যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। একের পর এক বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে না, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গ্রামবাসীরাও। স্থানীয়রা বলছেন, চোরচক্রের সদস্যরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তারা নির্জন এলাকা বেছে নিয়ে ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এসব চুরি করছে।

ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েক মাসে একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভোরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যুৎ বিভাগকে খবর দেন।

এ ধরনের ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করা পর্যন্ত গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কখনো কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয় এলাকার মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা ঘটলেও এখন এটি নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছাগলনাইয়া একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানে সেচকাজের জন্য বিদ্যুতের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা।

অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, জমিতে সেচ দেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হয়।

কৃষকদের মতে, সেচ মৌসুমে এমন ঘটনা ঘটলে ধান, সবজি এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শুধু কৃষিখাত নয়, ট্রান্সফরমার চুরির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অনেক ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে যেসব ব্যবসা বিদ্যুৎনির্ভর, সেগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আয় কমে যায় এবং গ্রাহকদেরও ভোগান্তি বাড়ে।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের ধারণা, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। তারা আগে থেকেই এলাকা পর্যবেক্ষণ করে এবং নির্জন স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া সহজ কাজ নয়। এর জন্য কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন। ফলে চক্রটির সদস্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

চুরি করা ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও অন্যান্য ধাতব উপকরণ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে চোরচক্রটি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ট্রান্সফরমারের মূল্য অনেক বেশি। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয় না, বরং নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে সময় ও জনবলও প্রয়োজন হয়।

কর্মকর্তাদের মতে, ট্রান্সফরমার চুরি রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো গেলে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

এছাড়া চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ কোথায় বিক্রি হচ্ছে, সেই বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ছাগলনাইয়ার বাসিন্দারা বলছেন, শুধু তদন্ত করলেই হবে না, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা ট্রান্সফরমারের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রাতের টহল জোরদার এবং স্ক্র্যাপ ব্যবসার ওপর নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

অনেকেই মনে করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

গ্রামবাসীরা আরও বলেন, বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো তামা ও ধাতব যন্ত্রাংশের উচ্চ বাজারমূল্য।

তারা মনে করেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার ওপর কঠোর নজরদারি, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু এবং ট্রান্সফরমারে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে চুরি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এছাড়া বিদ্যুৎ অবকাঠামো সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জনসচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।

এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ছাগলনাইয়া ট্রান্সফরমার চুরি এখন স্থানীয় জনগণের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দৌরাত্ম্যে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ছাগলনাইয়ার মানুষকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাগলনাইয়ায় থামছেই না ট্রান্সফরমার চুরি, সক্রিয় চোরচক্র

Update Time : ০৮:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ছাগলনাইয়া ট্রান্সফরমার চুরি যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। একের পর এক বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে না, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গ্রামবাসীরাও। স্থানীয়রা বলছেন, চোরচক্রের সদস্যরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তারা নির্জন এলাকা বেছে নিয়ে ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এসব চুরি করছে।

ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েক মাসে একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভোরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যুৎ বিভাগকে খবর দেন।

এ ধরনের ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করা পর্যন্ত গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কখনো কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয় এলাকার মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা ঘটলেও এখন এটি নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছাগলনাইয়া একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানে সেচকাজের জন্য বিদ্যুতের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা।

আরও পড়ুন  শাপলা চত্বর মামলা দ্রুত এগোচ্ছে: হেফাজত

অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, জমিতে সেচ দেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হয়।

কৃষকদের মতে, সেচ মৌসুমে এমন ঘটনা ঘটলে ধান, সবজি এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শুধু কৃষিখাত নয়, ট্রান্সফরমার চুরির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অনেক ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে যেসব ব্যবসা বিদ্যুৎনির্ভর, সেগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আয় কমে যায় এবং গ্রাহকদেরও ভোগান্তি বাড়ে।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের ধারণা, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। তারা আগে থেকেই এলাকা পর্যবেক্ষণ করে এবং নির্জন স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া সহজ কাজ নয়। এর জন্য কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন। ফলে চক্রটির সদস্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

চুরি করা ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও অন্যান্য ধাতব উপকরণ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে চোরচক্রটি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন  কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার, মামলার পর সন্তানসহ বাড়িছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ট্রান্সফরমারের মূল্য অনেক বেশি। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয় না, বরং নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে সময় ও জনবলও প্রয়োজন হয়।

কর্মকর্তাদের মতে, ট্রান্সফরমার চুরি রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো গেলে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

এছাড়া চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ কোথায় বিক্রি হচ্ছে, সেই বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ছাগলনাইয়ার বাসিন্দারা বলছেন, শুধু তদন্ত করলেই হবে না, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা ট্রান্সফরমারের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রাতের টহল জোরদার এবং স্ক্র্যাপ ব্যবসার ওপর নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

অনেকেই মনে করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আরও পড়ুন  সোনারগাঁয়ে অভিযানে ‘কাইল্লা রক্সি’ গ্রেপ্তার

গ্রামবাসীরা আরও বলেন, বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো তামা ও ধাতব যন্ত্রাংশের উচ্চ বাজারমূল্য।

তারা মনে করেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার ওপর কঠোর নজরদারি, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু এবং ট্রান্সফরমারে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে চুরি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এছাড়া বিদ্যুৎ অবকাঠামো সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জনসচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।

এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ছাগলনাইয়া ট্রান্সফরমার চুরি এখন স্থানীয় জনগণের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দৌরাত্ম্যে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ছাগলনাইয়ার মানুষকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে।