বৈশাখের তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘনঘন লোডশেডিং। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে বর্তমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
দেশে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ আপডেট আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে দেশের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে অবস্থান করছে। তীব্র গরমে এসির ব্যবহার এবং সেচ পাম্পের চাহিদার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
শহর ও গ্রামে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিত রাজধানী ঢাকাতে দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলেও গ্রামের অবস্থা আরও ভয়াবহ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক জায়গায় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে কৃষি কাজ এবং ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে গেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্মকর্তারা।
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ তীব্র এই দাবদাহে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এই সংকটময় সময়ে আমাদের প্রত্যেকের উচিত বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া। দিনের বেলা অপ্রয়োজনে বাতি জ্বালিয়ে না রাখা এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রাখা উচিত। এতে ন্যাশনাল গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনদুর্ভোগ ও প্রত্যাশা লোডশেডিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বৃষ্টি হয়, তবে তাপমাত্রা কমে আসবে এবং সেই সাথে বিদ্যুতের চাহিদাও অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কয়লা ও জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আবার পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরবে।
সতর্কতা ও টিপস: তীব্র এই লোডশেডিংয়ের সময়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুরক্ষায় ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া পানি ও আইপিএস-এর চার্জ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
“তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই সংকটময় সময়ে জনসাধারণের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং হাসপাতালে থাকা রোগীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রিড লাইনের ওপর চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, রাতের বেলায় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়।



























