স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে গেছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির একজন মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্র। প্রতিদিনের মতো নির্ধারিত সময়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলেও পরে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো বন্ধুর বাসায় গেছে কিংবা বিশেষ কোনো কাজে ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও সে ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন সকালে স্কুল ড্রেস পরে বই-খাতা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সাব্বির। স্কুলে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত হতে পরিবারের লোকজন পরে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তখন জানা যায়, সেদিন সে ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। এরপর থেকেই পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাব্বিরের বাবা জানান, ছেলে কোনো ধরনের খারাপ সঙ্গের সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে নিয়মিত পড়াশোনা করত এবং পরিবারের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো। হঠাৎ করে এমন ঘটনার কোনো কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে প্রতিদিনের মতোই স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই। আমরা আত্মীয়স্বজনের বাসাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। আমরা শুধু চাই, আমার ছেলে নিরাপদে ফিরে আসুক।”
নিখোঁজের ঘটনায় সাব্বিরের মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি জানান, ছেলে ছাড়া পুরো পরিবার এখন অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের কাছে দীর্ঘ ও কষ্টের মনে হচ্ছে।
এদিকে সাব্বিরের সহপাঠী ও শিক্ষকরাও তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “সাব্বির একজন নিয়মিত ছাত্র। তার এমন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পরিবারকে সহযোগিতা করছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এর আগে এ ধরনের ঘটনা খুব একটা ঘটেনি। ফলে সাব্বিরের নিখোঁজ হওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে খোঁজ চাওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য আমাদের টিম কাজ করছে।”
নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধচক্র জড়িত কি না কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশু ও কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামাজিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাদের মতে, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুদের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
সাব্বিরের নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশীরা প্রতিদিন পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তার দ্রুত সন্ধান কামনা করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করে তাকে খুঁজে পেতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আশা করছেন, কোনো না কোনো সূত্রের মাধ্যমে সাব্বিরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিশু বা কিশোর নিখোঁজ হলে প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হলে তাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
সাব্বিরের পরিবার দেশের সব মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। কেউ তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে নিকটস্থ থানায় অথবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বিরের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এখন একটাই প্রত্যাশা করছেন—সাব্বির যেন দ্রুত সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে আসে। তার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত পরিবারের উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।
























