পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, মাছ ও সবজির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। বৃষ্টি, সরবরাহ সংকট এবং চাহিদার তুলনায় কম পণ্য আসাকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। রাজধানীর কিছু বাজারে এই দাম ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকা থেকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে কৃষকেরা বর্তমানে পাট কাটা ও পরিবহন কাজে ব্যস্ত থাকায় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের উপস্থিতি কমেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনার সাঁথিয়াতেও দাম বেড়েছে। সেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম বাড়ায় কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।
এদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধি শুধু পেঁয়াজেই সীমাবদ্ধ নেই। বাজারে ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকায়। অনেক এলাকায় দোকান পর্যায়ে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ছিল।
মাছের বাজারেও বেড়েছে খরচ। রুই, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের দাম আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে রুই মাছের দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করছেন ক্রেতারা। কয়েক দফা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ সবজি কিনতে কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। এক মাস আগে এই দাম ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।
এ ছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স ও করলার দাম রয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত পণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং কমবে অতিরিক্ত খরচের চাপ।


























