ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রুনা লায়লা একক কনসার্ট: শিল্পকলায় ঐতিহাসিক আয়োজনের বিশেষ মুহূর্ত Logo যে ৩ বৈশিষ্ট্যে মিলবে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ Logo জন নায়গন প্রথম দিনের আয়: বিজয়ের শেষ সিনেমার দুর্দান্ত বক্স অফিস চমক Logo সেমিকন্ডাক্টর সামিট: ঢাকায় শুরু হচ্ছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সম্মেলন Logo বন্যার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিন মাস ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত Logo ব্যাংক আমানত: ৫৬ শতাংশ টাকা ব্যক্তির হিসাবেই জমা Logo পণ্যের দাম বৃদ্ধি: পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির বাজারে চাপ Logo রেমিট্যান্স প্রবাহ: ২২ দিনে দেশে এলো ২.১৭ বিলিয়ন ডলার Logo বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কর্মকর্তাদের কাজের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo থাইল্যান্ডে রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ, অগ্রাধিকারে ওষুধ-পাট পণ্য

পণ্যের দাম বৃদ্ধি: পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির বাজারে চাপ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫২০

পেঁয়াজ ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে বাজারে। | ছবি: সংগৃহীত

পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, মাছ ও সবজির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। বৃষ্টি, সরবরাহ সংকট এবং চাহিদার তুলনায় কম পণ্য আসাকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। রাজধানীর কিছু বাজারে এই দাম ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকা থেকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে কৃষকেরা বর্তমানে পাট কাটা ও পরিবহন কাজে ব্যস্ত থাকায় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের উপস্থিতি কমেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনার সাঁথিয়াতেও দাম বেড়েছে। সেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম বাড়ায় কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।

এদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধি শুধু পেঁয়াজেই সীমাবদ্ধ নেই। বাজারে ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকায়। অনেক এলাকায় দোকান পর্যায়ে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ছিল।

মাছের বাজারেও বেড়েছে খরচ। রুই, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের দাম আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে রুই মাছের দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করছেন ক্রেতারা। কয়েক দফা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

বর্তমানে অধিকাংশ সবজি কিনতে কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। এক মাস আগে এই দাম ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

এ ছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স ও করলার দাম রয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত পণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং কমবে অতিরিক্ত খরচের চাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুনা লায়লা একক কনসার্ট: শিল্পকলায় ঐতিহাসিক আয়োজনের বিশেষ মুহূর্ত

পণ্যের দাম বৃদ্ধি: পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির বাজারে চাপ

Update Time : ১২:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, মাছ ও সবজির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। বৃষ্টি, সরবরাহ সংকট এবং চাহিদার তুলনায় কম পণ্য আসাকে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। রাজধানীর কিছু বাজারে এই দাম ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকা থেকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে কৃষকেরা বর্তমানে পাট কাটা ও পরিবহন কাজে ব্যস্ত থাকায় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের উপস্থিতি কমেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

আরও পড়ুন  চড়া সবজি-মুরগি-ডিমের বাজারে অস্বস্তি ঢাকায়

পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনার সাঁথিয়াতেও দাম বেড়েছে। সেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম বাড়ায় কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।

এদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধি শুধু পেঁয়াজেই সীমাবদ্ধ নেই। বাজারে ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকায়। অনেক এলাকায় দোকান পর্যায়ে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ছিল।

আরও পড়ুন  পুশ ইনে ব্যর্থ হয়ে সীমান্তে বিএসএফের ককটেল বিস্ফোরণ

মাছের বাজারেও বেড়েছে খরচ। রুই, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের দাম আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে রুই মাছের দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করছেন ক্রেতারা। কয়েক দফা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

বর্তমানে অধিকাংশ সবজি কিনতে কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। এক মাস আগে এই দাম ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

আরও পড়ুন  ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ

এ ছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স ও করলার দাম রয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত পণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং কমবে অতিরিক্ত খরচের চাপ।