বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিটিভি বিশ্বকাপ প্রচারস্বত্ব কেনার ব্যয়ে বড় স্বস্তি দিয়েছে সরকার। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ দেশের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে সম্প্রচারস্বত্ব কেনার বিপরীতে পরিশোধযোগ্য ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং বিশ্বকাপ সম্প্রচার আরও সহজ হবে।
এই সুবিধা দিতে গত ২ জুলাই আদেশ জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। তবে ভ্যাট অব্যাহতি পেতে বিটিভিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শুধুমাত্র ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অল মিডিয়া রাইটস কেনার ব্যয়ের ওপর এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে এবং অর্থ পরিশোধের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটকে সব হিসাব জমা দিতে হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, এই ভ্যাট অব্যাহতি কোনো সাবলাইসেন্সি প্রতিষ্ঠান পাবে না। এছাড়া বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে অন্য কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা কার্যকর হবে না। অর্থাৎ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই কর ছাড় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, এবারের বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারের জন্য ফিফা থেকে অল মিডিয়া রাইটস কিনতে বিটিভির ব্যয় হবে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। আগের বিশ্বকাপের তুলনায় এবার প্রায় ২৫ কোটি টাকা কম খরচ হচ্ছে। গত ৭ জুন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ভ্যাট অব্যাহতির এই সিদ্ধান্ত ২৩ জুন থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে ওই তারিখের পর বিশ্বকাপ প্রচারস্বত্ব কেনার বিপরীতে প্রদেয় ভ্যাটের ক্ষেত্রে বিটিভি এই সুবিধা পাবে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ব্যয় কমার পাশাপাশি বিশ্বকাপ সম্প্রচারে প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি ইতিবাচক খবর। কারণ সরাসরি সম্প্রচার নিশ্চিত করতে সরকারের এই কর-সুবিধা বিটিভির জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে দেশের কোটি কোটি দর্শক সহজেই বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন সম্প্রচারে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।




























