সালমান খান নতুন লুক প্রকাশ করেই আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছেন। ৫৯ বছর বয়সেও তাঁর স্টাইল, ফিটনেস ও পর্দার উপস্থিতি ভক্তদের মুগ্ধ করছে। আসন্ন সিনেমা ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’-এর প্রচারণায় মাত্র দুটি ছবি প্রকাশ করেন বলিউড সুপারস্টার। ছবির ক্যাপশনে ছিল শুধু একটি শব্দ—‘মাতৃভূমি’। এতেই অনুরাগীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা এবং সিনেমাটি নিয়ে বেড়েছে কৌতূহল।
সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিগুলোতে কালো স্লিভলেস টি-শার্ট, ফেডেড নীল জিন্স এবং কাউবয় হ্যাটে একেবারে ভিন্ন রূপে দেখা গেছে সালমান খানকে। কুয়াশায় ঘেরা সবুজ পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে কখনো গভীর চিন্তায় মগ্ন, আবার কখনো চোখ বন্ধ করে নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে দেখা যায় তাঁকে। সিনেমাটিক ফ্রেমে ধারণ করা এসব ছবি মুহূর্তেই ভক্তদের নজর কাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন লুকের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছে সালমান খানের ফিটনেস। ৫৯ বছর বয়সেও তাঁর সুঠাম শরীর ও শক্তিশালী বাইসেপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে স্লিভলেস পোশাকে। অনেক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, বলিউডে ফিটনেস আইকন হিসেবে সালমান এখনও নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, বয়স যেন তাঁর কাছে শুধুই একটি সংখ্যা। নতুন ছবিগুলোতে তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে সালমান খান ফিল্মস। প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন সালমা খান এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন অপূর্ব লাখিয়া। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রাঙ্গদা সিং। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু যুদ্ধভিত্তিক কোনো সিনেমা নয়; বরং সাহস, আত্মত্যাগ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সেনাদের অজানা সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হবে। সিনেমাটির প্রথম নাম ছিল ‘ব্যাটেল অফ গলওয়ান’। পরে গল্পের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’।
পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নতুন নামটি দেশের প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরে। এদিকে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রথমে এপ্রিলে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। পরে স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহে মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেননি।
সম্প্রতি সিনেমাটিকে ঘিরে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে ছাড়পত্র পেতে জটিলতায় পড়েছে সিনেমাটি। তবে ৪ জুলাই সালমান খান ফিল্মস এক বিবৃতিতে এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানায়। প্রযোজনা সংস্থার বক্তব্য, সিনেমাটি এখনও সিবিএফসিতে জমাই দেওয়া হয়নি। তাই সেন্সর-সংক্রান্ত সব খবরই গুজব। নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিনেমার সব আনুষ্ঠানিক তথ্য ও আপডেট কেবল তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রকাশ করা হবে।
























