দীপিকা পাড়ুকোনের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা আজ শুধু বলিউড নয়, পুরো ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। নিজের বিষণ্নতার অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে সম্প্রতি তাঁর বাবা প্রকাশ পাড়ুকোন জানিয়েছেন, এই সচেতনতা কার্যক্রমের পেছনে ছিল আরও একটি গভীর ব্যক্তিগত ঘটনা এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ পাড়ুকোন জানান, ২০১৫ সালে দীপিকা যখন নিজের ডিপ্রেশনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তখন তিনি ও তাঁর স্ত্রী উজ্জ্বলা পাড়ুকোন মেয়ের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, একজন জনপ্রিয় তারকা হিসেবে দীপিকা নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে অসংখ্য মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন।
প্রকাশ পাড়ুকোনের মতে, দীপিকা বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর অবস্থান সমাজে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তাই তিনি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু করেন এবং পরে প্রতিষ্ঠা করেন দ্য লিভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং চিকিৎসা নেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা ভয় ও সংকোচ দূর করা।
তবে দীপিকার জীবনে একটি ঘটনা এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। প্রকাশ পাড়ুকোন জানান, নিজের সংগ্রামের কথা প্রকাশ করার কয়েক মাস পর দীপিকার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করা প্রয়োজন, যাতে অন্যরা সময়মতো সহায়তা পেতে পারে।
এরপর থেকেই দীপিকা পরিকল্পিতভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ শুরু করেন। অনেক তারকা যেখানে শিক্ষা, নারী অধিকার বা অন্যান্য সামাজিক ইস্যু নিয়ে কাজ করেন, সেখানে দীপিকা নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিষয়টিকেই বেছে নেন। তাঁর বাবা-মাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং সবসময় তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকারে প্রকাশ পাড়ুকোন আরও বলেন, সমাজে এখনো মানসিক অসুস্থতা নিয়ে নানা ধরনের কুসংস্কার রয়েছে। অনেকেই লজ্জা বা সামাজিক চাপে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে চান না। অথচ উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
গত এক দশকে দীপিকার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যদিও শুরুতে তাঁকে নানা সমালোচনা ও সন্দেহের মুখে পড়তে হয়েছিল, তবুও তিনি থেমে যাননি। বরং মানসিক স্বাস্থ্যকে স্বাভাবিক আলোচনার অংশ করে তোলার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে গেছেন।
দীপিকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর স্বপ্ন হলো ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো, যেখানে মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে ঠিক ততটাই স্বাভাবিকভাবে কথা বলবে, যতটা স্বাভাবিকভাবে তারা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করে।
কাজের ক্ষেত্রে দীপিকাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘কালকি ২৮৯৮এডি’ সিনেমায়। সামনে তাঁকে ‘কিং’ ছবিতে শাহরুখ খানের সঙ্গে দেখা যাবে। এছাড়া পরিচালক অ্যাটলির নতুন সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার কথা রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও সুখবর দিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শুরু হওয়া দীপিকার এই যাত্রা আজ লাখো মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তাঁর উদ্যোগ প্রমাণ করে, একজন তারকার জনপ্রিয়তা শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



























