ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

বিজু উৎসবে রাঙামাটিতে ঘরে ঘরে পাজন রান্না ও আপ্যায়ন

  • Tamanna Akter
  • Update Time : ১০:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩৩

রাঙামাটিতে বিজু উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে পাজন রান্না ও আপ্যায়ন চলছে।ছবি- সংগ্রহীত

পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’কে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে Rangamati জেলায়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে Chakma people সম্প্রদায়ের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজু উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়—ফুল বিজু, মূল বিজু এবং গজ্যাপজ্যা। এর মধ্যে চৈত্র মাসের শেষ দিনে পালিত ‘মূল বিজু’তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে শুরু হয় পাজন রান্নার প্রস্তুতি। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি কেটে পরিষ্কার করে রান্না করেন। এরপর দিনভর চলে অতিথি আপ্যায়ন এবং একে অপরের বাড়িতে বেড়ানোর রীতি।

পাজন মূলত বহু ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ খাবার। সাধারণত ৩০টির বেশি সবজি ব্যবহার করা হয়, আবার কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ১০০ প্রকার উপাদান দিয়েও এটি রান্না করা হয়। এতে কাঁঠাল, কলা, মিষ্টি কুমড়া, মূলা, বেতডগা ও নানা ধরনের শুটকি মাছ ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, বছরের এই বিশেষ দিনে পাজন খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং নানা রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের অংশ।

উৎসব উপলক্ষে মানুষজন একে অপরের বাড়িতে গিয়ে পাজনসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন। অনেকেই অন্তত কয়েকটি বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করেন, যা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া পাজনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সবাই মিলেই এই উৎসব উদযাপন করে, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।

উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিতে আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

বিজু উৎসবে রাঙামাটিতে ঘরে ঘরে পাজন রান্না ও আপ্যায়ন

Update Time : ১০:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’কে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে Rangamati জেলায়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে Chakma people সম্প্রদায়ের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজু উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়—ফুল বিজু, মূল বিজু এবং গজ্যাপজ্যা। এর মধ্যে চৈত্র মাসের শেষ দিনে পালিত ‘মূল বিজু’তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে শুরু হয় পাজন রান্নার প্রস্তুতি। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি কেটে পরিষ্কার করে রান্না করেন। এরপর দিনভর চলে অতিথি আপ্যায়ন এবং একে অপরের বাড়িতে বেড়ানোর রীতি।

পাজন মূলত বহু ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ খাবার। সাধারণত ৩০টির বেশি সবজি ব্যবহার করা হয়, আবার কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ১০০ প্রকার উপাদান দিয়েও এটি রান্না করা হয়। এতে কাঁঠাল, কলা, মিষ্টি কুমড়া, মূলা, বেতডগা ও নানা ধরনের শুটকি মাছ ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, বছরের এই বিশেষ দিনে পাজন খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং নানা রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের অংশ।

উৎসব উপলক্ষে মানুষজন একে অপরের বাড়িতে গিয়ে পাজনসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন। অনেকেই অন্তত কয়েকটি বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করেন, যা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া পাজনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সবাই মিলেই এই উৎসব উদযাপন করে, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।

উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিতে আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।