ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান কি ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে? নতুন দাবি ইসরায়েলের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন গোয়েন্দা দাবিতে বাড়ছে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই গোয়েন্দা দাবি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি ইসরায়েলি সূত্র চলতি সপ্তাহে এই গোয়েন্দা তথ্যের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে নতুন তথ্য সম্প্রতি ইসরায়েলের হাতে এসেছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রও ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে আসছিল। তবে ইসরায়েলের এই নির্দিষ্ট দাবি আগে তাদের নজরে ছিল না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা তথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হতে পারে। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যেন আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেন, সে লক্ষ্যেই এই তথ্য সামনে আনা হয়ে থাকতে পারে।

ট্রাম্পকে হত্যার কথিত পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে এখনো এ দাবি নিশ্চিত করতে পারেনি।

মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি নিয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। বরং তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি নিজেই ইরানের পক্ষ থেকে হত্যাচেষ্টার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন।

গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাঁকে সরিয়ে দিতে চায় এবং তিনি তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ভাগ্য এখন পর্যন্ত তাঁর পক্ষে থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি এমন একটি নতুন তালিকার বিষয়ে জানতে পেরেছেন, যেখানে তাঁকে ইরানের গুপ্তহত্যার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তিনি ইসরায়েলের সর্বশেষ গোয়েন্দা দাবির কথাই বলছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। সেই ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে করা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে—এমন কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো হামলা চালানোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ইসরায়েলের এই প্রতিবেদন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। লেবানন ইস্যুতেও তাঁর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, খুব শিগগিরই নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে পারেন।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতি চললেও পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নতুন পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দুই দেশ।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ যুদ্ধবিমানগুলোতে অস্ত্র বোঝাই করা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দিয়ে হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের নতুন গোয়েন্দা দাবি শুধু নিরাপত্তা উদ্বেগই বাড়ায়নি, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান কি ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে? নতুন দাবি ইসরায়েলের

Update Time : ০৩:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই গোয়েন্দা দাবি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি ইসরায়েলি সূত্র চলতি সপ্তাহে এই গোয়েন্দা তথ্যের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে নতুন তথ্য সম্প্রতি ইসরায়েলের হাতে এসেছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রও ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে আসছিল। তবে ইসরায়েলের এই নির্দিষ্ট দাবি আগে তাদের নজরে ছিল না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা তথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হতে পারে। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যেন আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেন, সে লক্ষ্যেই এই তথ্য সামনে আনা হয়ে থাকতে পারে।

ট্রাম্পকে হত্যার কথিত পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে এখনো এ দাবি নিশ্চিত করতে পারেনি।

মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি নিয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। বরং তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি নিজেই ইরানের পক্ষ থেকে হত্যাচেষ্টার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন।

গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাঁকে সরিয়ে দিতে চায় এবং তিনি তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ভাগ্য এখন পর্যন্ত তাঁর পক্ষে থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি এমন একটি নতুন তালিকার বিষয়ে জানতে পেরেছেন, যেখানে তাঁকে ইরানের গুপ্তহত্যার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তিনি ইসরায়েলের সর্বশেষ গোয়েন্দা দাবির কথাই বলছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। সেই ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে করা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে—এমন কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো হামলা চালানোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ইসরায়েলের এই প্রতিবেদন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। লেবানন ইস্যুতেও তাঁর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, খুব শিগগিরই নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে পারেন।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতি চললেও পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নতুন পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দুই দেশ।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ যুদ্ধবিমানগুলোতে অস্ত্র বোঝাই করা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দিয়ে হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের নতুন গোয়েন্দা দাবি শুধু নিরাপত্তা উদ্বেগই বাড়ায়নি, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।