রাজধানীর ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুর এলাকার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, বাড়তি খরচ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তারা।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এসব দাবি তুলে ধরেন। ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এ সভায় ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, আমদানির জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে উদ্যোক্তারা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসার খরচ কমানোর পাশাপাশি সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানান তারা।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো এবং পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও জোর দেন তারা।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং দোকানপাট বন্ধের সময়সীমাও ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হলে নীতিগত স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোও জরুরি।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর জানান, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে হয়রানি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পুলিশিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ীরা চশমাশিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির নীতিমালা সহজ করা, রিয়েল এস্টেট খাতে কর কমানো, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হলে ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ দুটোই কমবে। উদ্যোক্তাদের জন্য স্থিতিশীল নীতি ও সহজ নিয়ম চালু হলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশের ব্যবসা খাত আরও শক্তিশালী হবে।




























