ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের নতুন চাল: বন্ধ হচ্ছে বাব-এল-মান্দেব? ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে তেল!

লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের জবাবে হরমুজের পর এবার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুবিধা দেয় এমন সব জ্বালানি রপ্তানির করিডর বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংকীর্ণ এই প্রণালিটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথই চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাঁরা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এমনটি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

সম্প্রতি নিজেদের একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেল। লোহিত সাগরে হুতিদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার পূর্ব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে মার্কিন বাহিনী দেশটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় এক ডজন নাবিক হতাহত হয়েছেন। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা সাত ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায়।

মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হতো। আইআরজিসির দাবি, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের নতুন চাল: বন্ধ হচ্ছে বাব-এল-মান্দেব? ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে তেল!

Update Time : ০৪:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের জবাবে হরমুজের পর এবার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুবিধা দেয় এমন সব জ্বালানি রপ্তানির করিডর বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংকীর্ণ এই প্রণালিটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথই চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন  ফিফা কি আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেয়—কী বললেন স্কালোনি

এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাঁরা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এমনটি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন  ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পুলিশের গুলিতে নিহত ৬

সম্প্রতি নিজেদের একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেল। লোহিত সাগরে হুতিদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার পূর্ব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে মার্কিন বাহিনী দেশটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় এক ডজন নাবিক হতাহত হয়েছেন। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা সাত ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায়।

আরও পড়ুন  বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হতো। আইআরজিসির দাবি, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।