ভাগ্যশ্রী বোর্স এখন দক্ষিণ ভারতের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী। তবে আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে ১০০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমার নায়িকা হিসেবে দর্শকদের নজর কাড়ছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘লেনিন’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় এবং বক্স অফিসের সাফল্য নতুন করে তাঁকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
১৯৯৯ সালের ৬ মে ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন ভাগ্যশ্রী বোর্স। শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে নাইজেরিয়ার লাগোসে, যেখানে তিনি প্রায় সাত বছর পড়াশোনা করেন। পরে ভারতে ফিরে মুম্বাইয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা শুরু করেন। একই সময় মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে নিজের যাত্রা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে জায়গা করে নেন।
‘ইয়ারিয়াঁ ২’ ও ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর ২০২৪ সালে রবি তেজার বিপরীতে ‘মিস্টার বচ্চন’ সিনেমায় প্রথমবার নায়িকা হিসেবে বড় পরিসরে আত্মপ্রকাশ করেন ভাগ্যশ্রী। এরপর বিজয় দেবরাকোন্ডার ‘কিংডম’, দুলকার সালমানের ‘কান্থা’ এবং রাম পোথিনেনির ‘আন্ধ্র কিং তালুকা’সহ একাধিক বড় বাজেটের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণী চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘লেনিন’ সিনেমায় অখিল আক্কিনেনির বিপরীতে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ভাগ্যশ্রী। প্রায় ১০০ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমাটি ইতোমধ্যে বক্স অফিস থেকে ৫০ কোটির বেশি আয় করেছে। সামনে জনপ্রিয় অভিনেতা শিবকার্তিকেয়নের বিপরীতে তামিল সিনেমা ‘সেয়ন’-এও তাঁকে দেখা যাবে। নতুন এই প্রকল্পগুলো তাঁর ক্যারিয়ারে আরও বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একটি অনুষ্ঠানে নিজের শৈশবের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে ভাগ্যশ্রী বোর্স জানান, তাঁর জন্মের পরপরই বাবা চাকরি হারান। এরপর পরিবারকে প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন তাঁর মা–বাবা সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য নিরলস চেষ্টা করেছেন। নানা বাধা এলেও তাঁরা কখনো হাল ছাড়েননি, আর সেই সংগ্রামই তাঁকে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
ভাগ্যশ্রী আরও বলেন, ছোটবেলায় অর্থের প্রকৃত মূল্য বুঝতে না পারলেও বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন সংসার চালাতে তাঁর মা–বাবাকে কতটা হিসাব করে চলতে হতো। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। অভাব থেকে শুরু করে আজ ১০০ কোটি বাজেটের সিনেমার নায়িকা হওয়া—ভাগ্যশ্রী বোর্সের এই যাত্রা অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।



























