ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মালাক্কা করিডর: চীনের চমকপ্রদ নতুন কৌশল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? Logo মুক্তি পেলেন মার্কিন নারী: ইরানের পদক্ষেপে কৃতজ্ঞ ট্রাম্প | গুরুত্বপূর্ণ আপডেট Logo চাঞ্চল্যকর কিশোরগঞ্জ বিএনপি নেতা হত্যা: পদ স্থগিত সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা Logo জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা এখনও অনুপ্রেরণা! কেন আজও এত জনপ্রিয়? Logo প্রেডিক্টো-মেট্রিক্স রহস্য: সুপারকম্পিউটার কীভাবে বিশ্বকাপের ফল অনুমান করে Logo মেসি সর্বকালের সেরা: বিতর্ক কি এখনও আছে? Logo হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশে ফিরছে! ‘আওয়ারাপান ২’ ও ‘টক্সিক’ নিয়ে বড় আপডেট Logo আবার বিয়ে করবেন বলে ঘোষণা দিলেন পরীমণি Logo ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, শেষ মুহূর্তে Logo ইরানের ক্ষমতার লড়াই: কার হাতে এখন আসল নিয়ন্ত্রণ?

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা এখনও অনুপ্রেরণা! কেন আজও এত জনপ্রিয়?

‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা—বলিউডের এমন একটি সিনেমা, যা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হওয়ার বদলে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মুক্তির বহু বছর পরও নতুন দর্শক যেমন সিনেমাটি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন, তেমনি পুরোনো দর্শকরাও জীবনের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে এসে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন এর গল্প, চরিত্র এবং বার্তা।

এই সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বাস্তবতা। তিন বন্ধুর একটি রোড ট্রিপের গল্প হলেও এটি আসলে বন্ধুত্ব, ভয়, ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং নিজের ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একই সিনেমা নতুন অর্থ নিয়ে ধরা দেয়। কিশোর বয়সে যেখানে এটি ছিল অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সেটি হয়ে ওঠে আত্ম-উপলব্ধির প্রতিচ্ছবি।

সিনেমার তিন প্রধান চরিত্র—অর্জুন, কবির ও ইমরান—প্রত্যেকেই জীবনের আলাদা বাস্তবতাকে তুলে ধরে। একজন কাজপাগল, একজন ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, আরেকজন হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে নিজের কষ্ট। এই চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শক সহজেই নিজের জীবনের মিল খুঁজে পান। আর এ কারণেই সিনেমাটি একেক বয়সে একেক রকম অনুভূতি তৈরি করে।

শুধু গল্প নয়, স্পেনের মনোমুগ্ধকর লোকেশন, লা টোমাটিনা, রানিং অব দ্য বুলস, স্কুবা ডাইভিং কিংবা সিনেমার প্রতিটি ভিজ্যুয়াল এখনও দর্শকদের ভ্রমণের স্বপ্ন দেখায়। একই সঙ্গে ‘খোয়াবোঁ কে পরিন্দে’, ‘সেনোরিটা’ এবং ‘সূরজ কি বাহোঁ মে’-এর মতো গানগুলো আজও সমান জনপ্রিয়।

ফারহান আখতারের কবিতাগুলোও সিনেমাটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘তো জিন্দা হো তুম’ কবিতাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতায় উদ্ধৃত হয়। সিনেমার সংলাপ ও কবিতাগুলো দর্শকদের জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

সিনেমা বিশেষজ্ঞদের মতে, জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা শুধু একটি সফল বলিউড সিনেমা নয়; এটি একটি প্রজন্মের অনুভূতি। বন্ধুত্ব, সময়, সম্পর্ক এবং জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার যে বার্তা সিনেমাটি দেয়, সেটিই আজও দর্শকদের বারবার এই সিনেমার কাছে ফিরিয়ে আনে। তাই এত বছর পরও এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মালাক্কা করিডর: চীনের চমকপ্রদ নতুন কৌশল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা এখনও অনুপ্রেরণা! কেন আজও এত জনপ্রিয়?

Update Time : ১০:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা—বলিউডের এমন একটি সিনেমা, যা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হওয়ার বদলে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মুক্তির বহু বছর পরও নতুন দর্শক যেমন সিনেমাটি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন, তেমনি পুরোনো দর্শকরাও জীবনের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে এসে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন এর গল্প, চরিত্র এবং বার্তা।

এই সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বাস্তবতা। তিন বন্ধুর একটি রোড ট্রিপের গল্প হলেও এটি আসলে বন্ধুত্ব, ভয়, ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং নিজের ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একই সিনেমা নতুন অর্থ নিয়ে ধরা দেয়। কিশোর বয়সে যেখানে এটি ছিল অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সেটি হয়ে ওঠে আত্ম-উপলব্ধির প্রতিচ্ছবি।

আরও পড়ুন  অ্যাডাল্ট সনদ নিয়েই কি অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে আসছে বিজয়ের শেষ সিনেমা

সিনেমার তিন প্রধান চরিত্র—অর্জুন, কবির ও ইমরান—প্রত্যেকেই জীবনের আলাদা বাস্তবতাকে তুলে ধরে। একজন কাজপাগল, একজন ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, আরেকজন হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে নিজের কষ্ট। এই চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শক সহজেই নিজের জীবনের মিল খুঁজে পান। আর এ কারণেই সিনেমাটি একেক বয়সে একেক রকম অনুভূতি তৈরি করে।

শুধু গল্প নয়, স্পেনের মনোমুগ্ধকর লোকেশন, লা টোমাটিনা, রানিং অব দ্য বুলস, স্কুবা ডাইভিং কিংবা সিনেমার প্রতিটি ভিজ্যুয়াল এখনও দর্শকদের ভ্রমণের স্বপ্ন দেখায়। একই সঙ্গে ‘খোয়াবোঁ কে পরিন্দে’, ‘সেনোরিটা’ এবং ‘সূরজ কি বাহোঁ মে’-এর মতো গানগুলো আজও সমান জনপ্রিয়।

আরও পড়ুন  ‘বড় ভাই’ মোদি, ‘ছোট বোন’ তাকাইচি

ফারহান আখতারের কবিতাগুলোও সিনেমাটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘তো জিন্দা হো তুম’ কবিতাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতায় উদ্ধৃত হয়। সিনেমার সংলাপ ও কবিতাগুলো দর্শকদের জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

সিনেমা বিশেষজ্ঞদের মতে, জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা শুধু একটি সফল বলিউড সিনেমা নয়; এটি একটি প্রজন্মের অনুভূতি। বন্ধুত্ব, সময়, সম্পর্ক এবং জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার যে বার্তা সিনেমাটি দেয়, সেটিই আজও দর্শকদের বারবার এই সিনেমার কাছে ফিরিয়ে আনে। তাই এত বছর পরও এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য উদাহরণ।

আরও পড়ুন  ইতিহাস গড়ল সামান্থার সেই সিনেমা