আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য, তবে দুই দলের মধ্যে শারীরিক লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। বিরতির আগেই দুই দল মিলে করে ১৯টি ফাউল, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার ছিল ১২টি এবং ইংল্যান্ডের ৭টি। রেফারি ইসমাইল অবশ্য সংযত ছিলেন, মাত্র দুটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। মেসিও প্রথমার্ধে নিজের ছন্দে ছিলেন না, যদিও আর্জেন্টিনার বলের দখল ছিল ৫৮ শতাংশ।
৩৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিক থেকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে, যা কাকতালীয়ভাবে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। এর কিছুক্ষণ পর এলিয়ট অ্যান্ডারসনের কড়া চ্যালেঞ্জে মেসি বাধাগ্রস্ত হলে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। এনজো ফার্নান্দেজ ৩৯ মিনিটে জোরালো শট নিলেও তা গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে রজার্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইংল্যান্ড। মেসি ও আলভারেজের বোঝাপড়ায় আলভারেজের জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান পিকফোর্ড। এরপর ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। রাইসের চমৎকার ক্রস থেকে ব্যাকপোস্টে মলিনাকে পেছনে ফেলে বল জালে জড়ান অ্যান্থনি গর্ডন, যার আগে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোব্যাটিক ক্লিয়ারেন্স থেকেই বলটি ইংলিশদের কাছে যায়।
৬৪ মিনিটে পারেদেসের পরিবর্তে মাঠে নেমেই প্রভাব রাখেন গঞ্জালেজ, ৬৯ মিনিটে মেসির ক্রসে তার দারুণ হেড দুর্দান্ত সেভে ঠেকান পিকফোর্ড। ৭২ মিনিটে স্কালোনি তিনটি পরিবর্তন আনেন, সিমিওনে, মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বদলে নামান দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে। এর কিছুক্ষণ পর দে পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফেরত আসে, আর গঞ্জালেজের একটি হেড অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়, তবে পরের মিনিটেই তিনি ফিরে আসেন নায়কের ভূমিকায়। কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর ইনজুরি টাইমের ৯২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ, যা আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় ফাইনালের টিকিট।




























