স্বপ্নে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী এসিআই। সুপারশপ ব্র্যান্ড স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে এই বড় অঙ্কের মূলধনি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর এই বিনিয়োগ কার্যকর হবে।
এসিআইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত হয় স্বপ্ন সুপারশপ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের খুচরা বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারেনি। মূলত ব্যাংকঋণের সুদ, আন্তকোম্পানি ঋণের চাপ এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণে ব্যবসায়িক মুনাফা শেষ পর্যন্ত লোকসানে পরিণত হয়েছে। তাই এবার ব্যবসার আর্থিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এতদিন এসিআই বিভিন্ন সময়ে স্বপ্নকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এসব অর্থ স্বপ্নের হিসাবের খাতায় আন্তকোম্পানি ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন লোকসানে থাকায় সেই অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় এসিআই ওই ঋণের অর্থকে মূলধনি বিনিয়োগে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে স্বপ্নের ঋণের চাপ কমবে এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।
এসিআই জানিয়েছে, এই বিনিয়োগের বিপরীতে এসিআই লজিস্টিকস ৭০ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করবে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বপ্নের ব্যবসা সম্প্রসারণে শুধু এসিআই নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোং লিমিটেডও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এসিআই ও মিতসুইয়ের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বপ্নের প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বপ্ন রেকর্ড ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালন পর্যায়ে প্রায় ২১ কোটি টাকা মুনাফাও করেছে। তবে ব্যাংকঋণের সুদ ও কর পরিশোধের পর শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৩ কোটি টাকা।
গত পাঁচ বছরের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যবসার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও লোকসানের চক্র থেকে বের হতে পারেনি স্বপ্ন। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে ঋণের সুদের চাপ মুনাফার বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানিয়েছেন, এসিআইয়ের নতুন বিনিয়োগের ফলে বিদ্যমান ঋণের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বপ্ন দ্রুত একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে। দেশের সুপারশপ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের আরও উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে স্বপ্নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এসিআইয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে। দিন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪ টাকা ৭০ পয়সা বেড়ে ২০৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বপ্নে নতুন বিনিয়োগ এসিআইয়ের ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।























