বাংলাদেশ বনাম নেপাল নারী কাবাডি পাঁচ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে শুরু করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। শুক্রবার ঢাকার পল্টনস্থ ঐতিহাসিক জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ঘরের মাঠে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্বাগতিক মেয়েরা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালি ডিফেন্ডারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। প্রথমার্ধের শুরু থেকেই পরিকল্পিত আক্রমণ ও রক্ষণভাগের চমৎকার বোঝাপড়ায় ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের চারপাশ জুড়ে দর্শকদের করতালিতে মুখরিত ছিল স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত রেইড ও সফল ট্যাকল করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের যোগ্য অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক।
খেলার দ্বিতীয়োর্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য জোর চেষ্টা চালায় সফরকারী নেপাল দল, কিন্তু বাংলাদেশি মেয়েদের জমাট ডিফেন্সের সামনে তাদের সব আক্রমণ ভেস্তে যায়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের সুস্পষ্ট ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। দলগত এই অসাধারণ নৈপুণ্য এবং গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের ক্রমাগত সমর্থন পুরো ম্যাচ জুড়েই এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল।
এই স্মরণীয় ম্যাচে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের আকস্মিক ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি। খেলা শুরুর আগে তিনি মাঠে নেমে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে ভিআইপি বক্সের প্রটোকল ভেঙে তিনি সাধারণ দর্শকদের সাথে দাঁড়িয়ে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন এবং প্রতিটি পয়েন্টে মেয়েদের তালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। খেলা শেষে তিনি নিজেই বিজয়ী দলটিকে কাছে ডেকে নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে একটি সেলফি তোলেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
এর আগে জাঁকজমকপূর্ণ এই সিরিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সম্মানিত সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। এছাড়াও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আনন্দঘন মুহূর্তের অংশীদার হন। ঘরের মাঠে মেয়েদের এমন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স এবং জাইমা রেহমানের অনুপ্রেরণামূলক উপস্থিতি দেশের কাবাডি অঙ্গনে নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে।


























