বয়ফ্রেন্ড বব এখন বিউটি ও ফ্যাশন দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত হেয়ার ট্রেন্ডগুলোর একটি। জেন-জি থেকে শুরু করে মিলেনিয়াল—সব বয়সী ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই হেয়ারকাট। হলিউড অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজের নতুন লুক সামনে আসার পর থেকেই ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। সহজ, স্টাইলিশ এবং কম যত্নে দারুণ লুক দেওয়ার কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
নামের সঙ্গে ‘বয়ফ্রেন্ড’ শব্দটি থাকলেও এটি কোনো পুরুষের হেয়ারস্টাইল অনুকরণ নয়। বরং ‘বয়ফ্রেন্ড জিন্স’-এর মতোই আরামদায়ক, স্বাভাবিক এবং এফোর্টলেস স্টাইলিংয়ের ধারণা থেকেই এসেছে এই নাম। এই কাটে চুল সাধারণত চিবুকের নিচ থেকে কাঁধ পর্যন্ত থাকে। এতে থাকে হালকা লেয়ার, ন্যাচারাল টেক্সচার এবং নরম ভলিউম, যা চুলকে আরও প্রাণবন্ত দেখায়।
পেনেলোপে ক্রুজের এই লুকটি তৈরি করেছেন খ্যাতনামা হেয়ারস্টাইলিস্ট দিমিসট্রিস গিয়ানিটোস। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি হেয়ারস্টাইল তৈরি করা, যা দেখতে পরিপাটি হলেও অতিরিক্ত স্টাইল করা মনে হবে না। ফলে চুলের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও টেক্সচারই হয়ে উঠেছে এই লুকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বর্তমানে হলিউডের অনেক তারকাই একই ধরনের ন্যাচারাল শর্ট হেয়ারস্টাইল বেছে নিচ্ছেন।
শুধু পেনেলোপে ক্রুজ নন, লিলি কোলিনস, জেনডায়া এবং জিজি হাদিদের বিভিন্ন লুকেও এই ট্রেন্ডের প্রভাব স্পষ্ট। কখনো সফট বব, কখনো টেক্সচারড শর্ট কাট কিংবা এফোর্টলেস মিডিয়াম লেন্থ—সবগুলোই ‘বয়ফ্রেন্ড বব’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁতভাবে সেট করা চুলের পরিবর্তে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে স্বাভাবিক ও সহজ লুক।
এই হেয়ারকাটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি প্রায় সব ধরনের মুখের গঠন এবং চুলের টেক্সচারের সঙ্গে মানিয়ে যায়। সোজা, ঢেউ খেলানো কিংবা হালকা কোঁকড়া—সব ধরনের চুলেই এই কাট ভালো লাগে। পাশাপাশি এটি খুব বেশি ট্রিম করার প্রয়োজন হয় না। ফলে ব্যস্ত জীবনযাপনে যাঁরা কম যত্নে স্টাইলিশ থাকতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ হেয়ারস্টাইল।
স্টাইল করার ক্ষেত্রেও খুব বেশি ঝামেলা নেই। চুল ধোয়ার পর হালকা ব্লো-ড্রাই, সামান্য টেক্সচার স্প্রে অথবা শুধু প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে নিলেই সুন্দর একটি লুক পাওয়া যায়। গোল ব্রাশ দিয়ে সামান্য ভলিউম দিলে চুল আরও আকর্ষণীয় দেখায়। অতিরিক্ত হেয়ারস্প্রে বা শক্তভাবে সেট করার প্রয়োজন নেই, কারণ এই স্টাইলের সৌন্দর্যই হলো স্বাভাবিক ও কিছুটা এলোমেলো লুক।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘লেস ইজ মোর’ ধারণাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন বয়ফ্রেন্ড বব। এটি শুধু একটি হেয়ারকাট নয়, বরং এমন একটি স্টাইল দর্শন, যেখানে কম সাজেও আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই ২০২৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত হেয়ার ট্রেন্ডের তালিকায় শীর্ষেই রয়েছে এই স্টাইল।



























