ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান Logo বিকাশে লেনদেন: স্মার্ট ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় Logo অনন্যা পান্ডের হোয়াইট ক্যামেলিয়া ব্রাইডাল লুক: ১০০ ক্যারেট হীরায় নজরকাড়া রাজকীয় সাজ Logo রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি Logo ৬৪ দলের বিশ্বকাপ, কতটা সম্ভব ফিফার নতুন পরিকল্পনা Logo ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ Logo প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য Logo হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা: সৌদির জন্য বড় হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন

বিলে ঝাঁপিয়ে ধর্ষণ মামলার ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

দেবীদ্বার ধর্ষণ মামলার দুই অভিযুক্তকে কসবার বিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ছবি: সংগৃহীত

দেবীদ্বার ধর্ষণ মামলায় পলাতক থাকা দুই অভিযুক্তকে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই আসামি পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একটি বিলের মাঝখানে আত্মগোপন করেছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং মো. ইসমাইল (২৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলগাছতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী আগে অভিযুক্তদের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হননি।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা গ্রহণের পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে—

  1. ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
  2. আদালতে তার জবানবন্দি (ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারার অধীনে উল্লেখিত বলে পুলিশ জানিয়েছে) রেকর্ড করা হয়।
  3. অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয়।

দেবীদ্বার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিল এলাকায় অভিযান চালায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিলের মাঝখানে একটি নির্জন কুঁড়েঘরে দিনের বেলায় অবস্থান করতেন এবং রাতে অন্যত্র চলে যেতেন।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরাও নৌকা থেকে পানিতে নেমে ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছিল।

তিনি জানান, মাত্র ১১ দিনের মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছে এমন কেউ রয়েছে কি না—সেসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান

বিলে ঝাঁপিয়ে ধর্ষণ মামলার ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

Update Time : ০৯:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দেবীদ্বার ধর্ষণ মামলায় পলাতক থাকা দুই অভিযুক্তকে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই আসামি পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একটি বিলের মাঝখানে আত্মগোপন করেছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং মো. ইসমাইল (২৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলগাছতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, অভিযানে ধরা পড়লেন ব্যবসায়ী

পরবর্তীতে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী আগে অভিযুক্তদের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হননি।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা গ্রহণের পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে—

  1. ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
  2. আদালতে তার জবানবন্দি (ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারার অধীনে উল্লেখিত বলে পুলিশ জানিয়েছে) রেকর্ড করা হয়।
  3. অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয়।
আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশি বৈঠকে হামলা, শ্রমিক দল নেতা নিহত

দেবীদ্বার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিল এলাকায় অভিযান চালায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিলের মাঝখানে একটি নির্জন কুঁড়েঘরে দিনের বেলায় অবস্থান করতেন এবং রাতে অন্যত্র চলে যেতেন।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরাও নৌকা থেকে পানিতে নেমে ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।

আরও পড়ুন  কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছিল।

তিনি জানান, মাত্র ১১ দিনের মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছে এমন কেউ রয়েছে কি না—সেসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।