খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন ঘিরে যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ দিনের মতো প্রতিবাদে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাতে অদম্য বাংলায় মশাল প্রজ্বলন ও প্রতিবাদী গণসংগীতের মাধ্যমে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরেন বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা।
দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং এক ক্যানটিন কর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি এবং বিতর্কিত একটি ছাত্র ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ষষ্ঠ দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলায় মশাল প্রজ্বলন ও গণসংগীতের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়ে জানান, তাঁদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরা।
রাত সাড়ে আটটা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে প্রতিবাদী গান, গণসংগীত ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনের দাবি জানান। প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনের পুরো সময়জুড়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের দাবির পক্ষে অবস্থান নেন। অনেকেই হাতে মশাল নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদে অংশ নেন, যা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যানটিন কর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও পরে তালা খুলে নেওয়া হয়। তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিন কর্মীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ইতোমধ্যে লিখিত বিবৃতি দিয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট না থাকলেও চলমান অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরাই। তবে কেবল ক্লাসে ফেরার জন্য নয়, স্থায়ী সমাধান ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।





























